ময়মনসিংহের ত্রিশালে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় ইজারাদারের এক কর্মীকে চড়-থাপ্পড় ও লাঠি দিয়ে আঘাতের অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে মানবাধিকার ও আইনি সহায়তা সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। একইসঙ্গে ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) আসকের জ্যেষ্ঠ সমন্বয়কারী আবু আহমেদ ফয়জুল কবির স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ উদ্বেগের কথা জানানো হয়।
আসক বলেছে, আইন প্রয়োগের দায়িত্বে থাকা একজন সরকারি কর্মকর্তার হাতে একজন নাগরিক শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে নাগরিকের মর্যাদা রক্ষা করা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা বলেও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আসক জানায়, মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯-এর কোনো বিধানেই কোনো ব্যক্তিকে চড়-থাপ্পড়, লাঠিপেটা বা শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে দেওয়া হয়নি।
সম্প্রতি ত্রিশালের কালীরবাজার এলাকায় একটি বালুর ঘাটে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় ইজারাদারের এক ব্যবস্থাপককে ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী মারধর করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
আসকের অভিযোগ, ফুটেজে ওই কর্মকর্তাকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পরপর চড় মারতে এবং লাঠি দিয়ে আঘাত করতে দেখা যায়। পরে আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলেও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে আসক বলেছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে ঘটনার নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত করা। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে ত্রিশালের ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকীকে বর্তমান পদ থেকে বদলি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (সংযুক্ত) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পরদিন এক সমঝোতা বৈঠকে ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী ওই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন বলেও জানা গেছে।
তবে আসক মনে করছে, শুধু দুঃখ প্রকাশের মধ্য দিয়ে এমন অভিযোগের নিষ্পত্তি হওয়া উচিত নয়। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রয়োগের সময় নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা লঙ্ঘনের অভিযোগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের মাধ্যমে দায় নির্ধারণ করা জরুরি।
সাখাওয়াত সুমন/এএমকে
