বিজ্ঞাপন

সিলেটে হামের উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ২৮

সিলেটে হামের উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ২৮

সিলেট বিভাগে হাম পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ২৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৪২ জনে। আর সন্দেহজনক ও নিশ্চিত দুই ধরনের রোগী মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৩ জনে।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১১৯ জন সন্দেহজনক হাম রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৪৮ জন, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫৭ জন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ৩ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২ জন এবং মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে যথাক্রমে ৫ ও ৪ জন ভর্তি হয়েছেন।

এ নিয়ে বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৮০ জন রোগী চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১১৫ জন এবং সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০০ জন ভর্তি।

এ ছাড়া রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৩ জন, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ১ জন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ৬ জন, গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন, বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ৩০ জন, হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ২ জন এবং মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ৮ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগে দুই শিশুর মৃত্যুর তথ্য দেওয়া হয়েছে। মৃতদের একজন সিলেটের গোয়াইনঘাট এলাকার ৭ মাস বয়সী শিশু ইয়াসিন। সে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। অন্যজন সুনামগঞ্জের ৫ মাস ১৯ দিন বয়সী শিশু মো. সাইফান। সেও ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

জেলা হিসেবে হাম ও সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি সুনামগঞ্জে। এ জেলায় সন্দেহজনক হাম রোগে এ পর্যন্ত ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া নিশ্চিত হাম রোগে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে সুনামগঞ্জে হাম ও সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৫ জনে।

মাসুদ আহমদ রনি/এএমকে