পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় এক মালয়েশিয়া প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় প্রবাসীর ছেলে নাইম (২২) গুলিবিদ্ধসহ পরিবারের তিনজন আহত হয়েছেন। ডাকাতরা পরিবারের সদস্যদের হাত-পা বেঁধে মারধর করার পাশাপাশি এক নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় বাধা দিলে নাইমের হাঁটুর ওপর গুলি করে ডাকাতরা।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ভোররাত আনুমানিক আড়াইটা থেকে ৩টার মধ্যে উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের পশ্চিম বাদুরতলী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন নাইম (২২), তার স্ত্রী রেজবি (১৮) ও মা রুমা বেগম (৪০)। ডাকাতির সময় রুমা বেগমের দুই বছর বয়সী নাতি তাসফিরের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ভয় দেখানো হয় বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ডাকাতরা বাড়ির দক্ষিণ পাশের জানালার গ্রিল কেটে ঘরে প্রবেশ করে। পরে ৫-৬ জনের একটি দল পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে মারধর শুরু করে। এ সময় ডাকাত দলের আরও কয়েকজন সদস্য বাইরে অবস্থান করছিলেন।
প্রবাসীর স্ত্রী রুমা বেগম জানান, তার স্বামী মাহিন বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। রাতে খাবার খেয়ে পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। রাত আড়াইটা থেকে ৩টার দিকে জানালার গ্রিল কেটে ডাকাতরা ঘরে প্রবেশ করে। তারা পরিবারের সদস্যদের হাত-পা বেঁধে মারধর করে এবং তার পুত্রবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় ছেলে নাইম বাধা দিলে তার হাঁটুর ওপর গুলি করা হয়।
তিনি আরও জানান, পরে তার দুই বছরের নাতি তাসফিরের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ভয় দেখিয়ে ডাকাতরা ঘরে থাকা প্রায় ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ প্রায় ২ লাখ টাকা ও একটি আইফোন নিয়ে পালিয়ে যায়।
ডাকাতরা চলে যাওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করেন। পরে আহতদের কলাপাড়া হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠান।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এসএম আলমাস/এএমকে
