বিজ্ঞাপন

রংপুরে গ্যারেজ মালিককে হত্যার রহস্য উদঘাটন, নারীসহ গ্রেপ্তার ৩

রংপুরে গ্যারেজ মালিককে হত্যার রহস্য উদঘাটন, নারীসহ গ্রেপ্তার ৩

রংপুরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার গ্যারেজ মালিককে হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র‍্যাব-১৩ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য এবং আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সাথে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। আসামিরা হলেন- রংপুর মহানগরীর মাহিগঞ্জ থানাধীন পূর্বখাসবাগ এলাকার হায়দার আলীর ছেলে দুলাল মিয়া (৪৫) ও লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী গ্রামের নাসির উদ্দিনের মেয়ে ফিরোজা বেগম (৫৫) এবং একই গ্রামের মহির উদ্দিনের ছেলে রেজাউল ইসলাম (৫৫)।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রংপুর মহানগরীর তাজহাট আনছারীর মোড় এলাকার একটি অটোরিকশা গ্যারেজ থেকে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে আব্দুর রহমান (৬৫) নামে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত ব্যক্তি ওই গ্যারেজের মালিক ছিলেন। তাকে বুধবার রাতের কোনো একসময় কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে তাজহাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।  

র‍্যাব-১৩ জানায়, মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও রহস্য উদঘাটনে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে আসামি দুলাল মিয়া এবং ভোর সাড়ে চারটার দিকে ফিরোজা বেগম ও রেজাউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাবের দাবি, গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্যারেজ মালিক আব্দুর রহমানকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। এ হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে জানা যায়, প্রায় দুইবছর আগে ফিরোজা বেগমের স্বামী মারা যায়। অপরদিকে আসামি দুলাল মিয়া নিহত গ্যারেজ মালিক আব্দুর রহমাননের গ্যারেজ থেকে অটোরিকশা ভাড়া নিয়ে চালাতেন।

প্রায় ৫-৬ মাস আগে আব্দুর রহমানের স্ত্রী তাকে তালাক দিয়ে চলে যায়। এই সুবাদে দুলাল মিয়া তার পূর্ব পরিচিত ফিরোজা বেগমের অসহায়ত্বকে কাজে লাগিয়ে আব্দুর রহমানের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে গোপনে উকিল বাবা সেজে তাদের বিয়ে দেয়। বিয়ের ৫-৭ দিন পর আব্দুর রহমান তার স্ত্রী ফিরোজা বেগমকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করলে ফিরোজা বেগম আর সংসার করবে না বলে জানায়।

এ ঘটনার প্রায় সাতদিন আগে দুলাল মিয়ার মধ্যস্থতায় এক লক্ষ টাকার বিনিময়ে গ্যারেজ মালিক আব্দুর রহমান ও আসামি ফিরোজা বেগমের তালাক হয়। বিয়ের সময় দুলাল মিয়া ওই গ্যারেজ মালিকের কাছ থেকে দুইটি অটোরিকশা নিয়ে দিবে মর্মে ফিরোজা বেগমকে আশ্বস্ত করে। তালাকের পর বিভিন্ন অজুহাতে দুলাল মিয়া ফিরোজা বেগমের কাবিনের পঞ্চাশ হাজার টাকা নিজের কাছে রেখে দেয়।

পরবর্তীতে ঘটনার আগের দিন বুধবার (১২ আগস্ট) দুলাল মিয়া অটোরিকশা উদ্ধারের কথা বলে ফিরোজার কাছে চার হাজার টাকা দাবি করে। ফিরোজা বেগম টাকা না দিলেও দুলালকে একটি অটোরিকশা দিবে বলে অটোরিকশা উদ্ধার করতে বলে। পরবর্তীতে ওই দুইজন আসামির সাথে সমন্বয় করে অপর আসামি রেজাউল ইসলাম পরস্পর যোগসাজসে গ্যারেজ মালিক আব্দুর রহমানকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

র‍্যাব আরও জানায়, আসামিদের গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সমাজ থেকে হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণের মতো মারাত্মক অপরাধ দমনে র‍্যাবের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ফরহাদুজ্জামান ফারুক/এসএইচএ