রাজধানী ঢাকার বাইরে প্রথমবারের মতো জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হতে যাচ্ছে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে। আর এ আয়োজনকে ঘিরে আগামী রোববার (১৬ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কিশোরগঞ্জ সফর সামনে রেখে জেলাজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
প্রধানমন্ত্রীর এক দিনের সফরে মৎস্য পোনা অবমুক্ত, হ্যাচারি পরিদর্শন, জাতীয় মৎস্য পক্ষ উদ্বোধন ও উদ্যোক্তাদের পুরস্কার প্রদানসহ একাধিক কর্মসূচি রয়েছে। পাশাপাশি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ও বিভিন্ন অনুদান দেওয়ার কর্মসূচিও রয়েছে।
মৎস্য পোনা অবমুক্ত দিয়ে শুরু
সফরসূচি অনুযায়ী, রোববার সকালে সড়কপথে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যানবাড়ি ঘাট এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত ও বিতরণ করবেন তিনি। সেখানে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করার কথা রয়েছে।
এরপর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কটিয়াদী কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর ১টার দিকে কটিয়াদীর আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশন মাঠে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর কেন্দ্রীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সেখানে মৎস্য খাতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৩টি ক্যাটাগরিতে ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় মৎস্য পদক (স্বর্ণপদক) দেওয়া হবে।

এতদিন জাতীয় মৎস্য পক্ষের কেন্দ্রীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান রাজধানীতেই হয়ে এসেছে। এবারই প্রথম ঢাকার বাইরে কিশোরগঞ্জে এ আয়োজন হওয়ায় অনুষ্ঠানটি বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছে।
মৎস্যে এগিয়ে বৃহত্তর ময়মনসিংহ
মৎস্য উৎপাদন, পোনা উৎপাদন ও হ্যাচারি ব্যবসায় বৃহত্তর ময়মনসিংহের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। মাছ চাষের পাশাপাশি হাওর ও নদ-নদীসমৃদ্ধ এ অঞ্চলের মৎস্যসম্পদের সম্ভাবনাও ব্যাপক। সেই সম্ভাবনা ও সাফল্যকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতেই কিশোরগঞ্জে এবারের কেন্দ্রীয় আয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মৎস্য খাতে বিশেষ অবদানের জন্য দেশের ১৪ জন উদ্যোক্তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বর্ণপদক দেওয়া হবে।
শোলাকিয়া থেকে স্টেডিয়াম
মৎস্য পক্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার উদ্দেশে রওনা হবেন। দুপুর আড়াইটার দিকে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে একটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে তার। সেখানে ছাত্রদল আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশ নেবেন তিনি।

এরপর সার্কিট হাউসে মধ্যাহ্নভোজ ও বিশ্রাম শেষে বিকেল ৪টার দিকে জেলা শহরের পুরাতন স্টেডিয়ামে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, বিভিন্ন অনুদান এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।
সারা দেশের শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ দেওয়ার পাইলট কর্মসূচির উদ্বোধনও এ সফরে হতে পারে। সন্ধ্যা ৬টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর ঢাকার উদ্দেশে কিশোরগঞ্জ ছাড়ার কথা রয়েছে।
প্রত্যাশা উন্নয়নের
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে জেলার মানুষের মধ্যেও তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ। মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন ছাড়াও জেলার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন-প্রত্যাশা পূরণে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে নতুন কোনো ঘোষণা আসবে— এমন প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।
কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে জেলার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এ সফরের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন-প্রত্যাশা পূরণের নতুন পথ তৈরি হবে বলে আশা করছেন তিনি।

কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম এবং কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিনও জেলার যোগাযোগব্যবস্থা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও মৎস্য খাতের উন্নয়নে নতুন ঘোষণার প্রত্যাশা জানিয়েছেন।
রাজধানীর বাইরে প্রথমবার জাতীয় মৎস্য পক্ষের কেন্দ্রীয় উদ্বোধন, তার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর একাধিক কর্মসূচি— সব মিলিয়ে কিশোরগঞ্জের মানুষের নজর এখন ১৬ আগস্টের দিকে। মৎস্য আয়োজনের বাইরেও এ সফর থেকে জেলার জন্য কী ঘোষণা আসে, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।
সাখাওয়াত হোসেন হৃদয়/এমএমবি
