যশোরের মণিরামপুরে দেবিদাসপুর-পাতন ভায়া মাঝিয়ালি সংযোগ সড়কের হরিহর নদের ওপর নির্মিত কংক্রিটের সেতুটি ভেঙে একদিকে হেলে পড়েছে। সেতুর পাটাতনে ফাটল, মাঝের পিলারে বড় ধরনের ক্ষত এবং নিচের অংশের পলেস্তারা ধসে রড বেরিয়ে পড়েছে। সংযোগ সড়কেও দেখা দিয়েছে ফাটল। যেকোনো সময় সেতুটি পুরোপুরি ধসে পড়ার আশঙ্কায় স্থানীয়রা দুই পাশে বাঁশ বেঁধে পারাপার বন্ধ করে দিয়েছেন।
গত সোমবার মণিরামপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদ সেতুটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে দুই পাশে সতর্কতামূলক নোটিশ ঝুলিয়ে দেয়। এতে গত চার দিন ধরে নদের দুই পাড়ের শতাধিক পরিবার দুর্ভোগে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে স্কুল-মাদরাসাগামী অন্তত শতাধিক শিক্ষার্থী। তাদের এখন প্রায় এক কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প সেতু দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় ২০০৬ সালে হরিহর নদের ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়। গত শনিবার সকালে সেতুটি মাঝ বরাবর দেবে গিয়ে ফাটল ও একদিকে হেলে পড়ার বিষয়টি তাদের নজরে আসে। সেতুর নিচের পিলারের পলেস্তারা ধসে রড বেরিয়ে গেছে। সংযোগ সড়কেও বড় ফাটল দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় পল্লি চিকিৎসক মুজাফফার হোসেন বলেন, সেতুর ওপারে পাতন দাখিল মাদরাসা, মসজিদভিত্তিক শিশু শিক্ষা কার্যক্রম ও পাতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ শিক্ষার্থী দেবিদাসপুর গ্রামের। সেতুটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের দুর্ভোগ বেড়েছে। অনেক অভিভাবক ঝুঁকি নিয়ে সন্তানদের পারাপার করাচ্ছেন। পাশাপাশি কৃষকেরাও এই পথ দিয়ে ফসল আনা-নেওয়া করেন। দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ করা না হলে দুই পাড়ের মানুষের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়বে।

পাতন দাখিল মাদরাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহাফুজ হোসেন বলে, ‘সেতু ভাঙা থাকায় এখন অনেক পথ ঘুরে মাদরাসায় যেতে হচ্ছে।’
মাদরাসার সহকারী প্রধান শিক্ষক আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ শিক্ষার্থী দেবীদাসপুর গ্রামের। তারা এই সেতু পার হয়ে মাদরাসায় আসা-যাওয়া করে। এখন প্রায় এক কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ পাড়ি দিয়ে তাদের আসতে হচ্ছে।’
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নিস্তার ফারুক বলেন, ‘পুরনো সেতুটি ভেঙে নতুন সেতু নির্মাণের জন্য দুই বছর আগে উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরকে জানানো হয়েছিল। এখন সেতুটি ভেঙে পড়ার বিষয়টিও উপজেলা প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে। তাঁরা সরেজমিন দেখে গেছেন।’
তিনি বলেন, বিকল্প পারাপারের ব্যবস্থা করতে হলে প্রায় ১২০ ফুট দীর্ঘ বাঁশ বা কাঠের সাঁকো নির্মাণ করতে হবে। কিন্তু নদের গভীরতা বেশি হওয়ায় এমন সাঁকো নির্মাণের সামর্থ্য ইউনিয়ন পরিষদের নেই।
উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান বলেন, ‘সেতু ভাঙার খবর পেয়ে সরেজমিনে দেখে এসেছি। দ্রুত নতুন সেতুর বরাদ্দের জন্য অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি সরকারি উদ্যোগে হরিহর নদ খনন করা হয়েছে। এরপর কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে নদে পানি বেড়ে স্রোত সৃষ্টি হয়। এতে সেতুর নিচ থেকে মাটি সরে গিয়ে ধসের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তাঁদের ধারণা। এখন দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ না হলে দুর্ঘটনার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি জনদুর্ভোগের আশঙ্কা করছেন তারা।
রেজওয়ান বাপ্পী/আরকে
