স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, স্বাস্থ্য খাতে সুশাসন নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। তৃণমূল পর্যায়ে সেবার মান বৃদ্ধি করে একটি সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
শনিবার ( ১৫ আগস্ট) দুপুরে সাভারে অবস্থিত হেলথ ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট ও ৫০ শয্যা বিশিষ্ট সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপকদের বিশেষ প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হচ্ছে। এছাড়া সাভারে অবস্থিত হেলথ ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটের নবনির্মিত ভবন চার বছর ধরে অব্যবহৃত ফেলে রাখায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এসময় ইনস্টিটিউটটি দ্রুত চালুর উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দেন তিনি।
ইনস্টিটিউটের পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী অসন্তোষ প্রকাশ করে সাংবাদিকদের বলেন, ২০২২ সালে জনগণের টাকায় দৃষ্টিনন্দন এই ভবনগুলো তৈরি করা হয়েছে। চার বছর পেরিয়ে গেলেও এগুলো কোনো কাজেই লাগানো হচ্ছে না। সেখানেও দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা এবং অবহেলার সুস্পষ্ট ছাপ দেখতে পেয়েছি। সরেজমিন বিষয়টি দেখেছি এবং এ নিয়ে আমরা খুব দ্রুতই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
ভবিষ্যতের হেলথ ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটটি সারাদেশের স্বাস্থ্য খাতে ভূমিকা রাখবে বলে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাভারের এই হেলথ ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটটি কেবল স্থানীয়দের জন্য নয়। এটি সারা দেশের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। দেশের ৬৪ জেলার সিভিল সার্জন, বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকরা এখান থেকে প্রশিক্ষণ পাবেন।
উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার দেশের ৫০০টি উপজেলায় ১৫০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে শুধু অবকাঠামো তৈরি করলেই চলবে না। সঠিক ব্যবস্থাপনা ও সুশাসন নিশ্চিত না হলে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা পাবে না। এজন্যই তৃণমূল থেকে জেলা পর্যায় পর্যন্ত স্বাস্থ্য প্রশাসন পরিচালনায় যুক্ত চিকিৎসকদের ধাপে ধাপে ‘হেলথ ম্যানেজমেন্ট’ বিষয়ে আধুনিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
এ সময়ে আরও উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা ১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু, সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ফজলে রাব্বিসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কর্মচারী।
লোটন আচার্য্য/এসএইচএ
