বিজ্ঞাপন

অভাবেও থামেনি সুমাইয়া, পড়াশোনার খরচ জোগাতে সেলাই কাজ

অভাবেও থামেনি সুমাইয়া, পড়াশোনার খরচ জোগাতে সেলাই কাজ

বাবার আয় সামান্য, সংসারে অভাব। ঠিকমতো খাবার জোটে না সব সময়। মাথার ওপর পাকা ছাদও নেই। নিজের পড়াশোনার খরচ জোগাতে বাড়ির পাশের সেলাই সেন্টারে কাজ করতে হয়েছে। কিন্তু এসব কোনো কিছুই দমাতে পারেনি সুমাইয়া খাতুনকে। অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রমে এবার এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে সে।

সুমাইয়া যশোরের মনিরামপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের আবু দাউদ মোল্লা ও নাছিমা খাতুনের ছোট মেয়ে। সে মনিরামপুর কারিগরি ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।

সুমাইয়ার বাবা আবু দাউদ দিনমজুরের কাজ করেন। মা নাছিমা খাতুন গৃহিণী ও সেলাইয়ের কাজ করে। দুই মেয়ের সংসারে আর্থিক টানাপোড়েন নিত্যদিনের সঙ্গী। অভাবের কারণে মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হয় পরিবারটিকে। সেই পরিস্থিতিতে নিজের পড়াশোনার খরচের একটি বড় অংশ নিজেই জোগাড় করেছে সুমাইয়া। বাড়ির পাশের একটি সেলাই সেন্টারে মায়ের সঙ্গে কাপড় সেলাইয়ের কাজ করে সে। কাজের ফাঁকে চলছে পড়াশোনা। 

সুমাইয়ার পরিবার জানায়, তাদের ঘরটি উপরিভাগে টালী ও চারিদিকে টিন দিয়ে ঘেরা। সংসারে রয়েছে নানা সংকট। এরপরও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহে ভাটা পড়েনি সুমাইয়ার। প্রতিকূলতার মধ্যেও নিয়মিত পড়াশোনা করেছে সে। তার স্বপ্ন, ভবিষ্যতে সরকারি চাকরি করবে।

সুমাইয়ার মা নাছিমা খাতুন বলেন, মেয়েকে ঠিকমতো খাতা-কলমও দিতে পারিনি। নিজের পড়াশোনার খরচ সেলাইয়ের কাজ করে নিজেই চালিয়ে আসছে।

বাবা আবু দাউদ মোল্লা বলেন, ছোটবেলা থেকেই সুমাইয়া পড়াশোনায় ভালো। প্রায় সব ক্লাসে ফার্স্ট হয় সে। মেয়েকে ভালো কাপড় দিতে পারিনি, ভালোভাবে পড়াশোনা করানোর খরচও জোগাতে পারেনিএটা আমার জন্য কষ্টের।

মেয়ের জিপিএ-৫ পাওয়ার খবরে আনন্দের পাশাপাশি এখন নতুন চিন্তা ভর করেছে পরিবারটির। উচ্চশিক্ষায় মেয়েকে কীভাবে পড়াবেন, সেই দুশ্চিন্তায় আছেন আবু দাউদ পরিবার। তার সামর্থ্য সীমিত হওয়ায় সুমাইয়াকে বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করানো স্বপ্ন পূরণে আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

প্রতিবেশী আইয়ূব আলী বলেন, দারিদ্র্য বা অভাব মানুষের মনোবল দমাতে পারে না, অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রম থাকলে প্রতিকূলতার মধ্যেও ভালো ফল করা সম্ভব। দারিদ্র্যকে জয় করে দেখিয়েছে সুমাইয়া।

মনিরামপুর কারিগরি ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের সুপার আব্দুল্লাহ ফারুক আল মাহমুদ বলেন, সুমাইয়া আমাদের প্রতিষ্ঠানের মুখ উজ্জ্বল করেছে। তাকে আর্থিক সহযোগিতা ও সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া গেলে সে ভবিষ্যতে অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারবে।

রেজওয়ান বাপ্পী/এএমকে