বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, এখন আপনি যদি বাংলাদেশে সব বিদ্যুৎকেন্দ্র, সব মিল-ফ্যাক্টরি এক জায়গায় করেন, যত বিদ্যুতের নতুন সংযোগের জন্য যে সমস্ত মিল-ফ্যাক্টরির আবেদন অপেক্ষমাণ আছে, নতুন ব্যবসার জন্য, সব যদি এক জায়গায় করেন, তাহলে যা আমাদের প্রয়োজন, আমরা তার অর্ধেকে আছি। আরও ততটুকু দরকার।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সিলেট নগরীতে একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, এখন কেউ বলতে পারেন, তাহলে এলএনজি আনা বাড়িয়ে দেন, এটার সমাধান দুটি। একটা হলো বিগত সরকারের সময় দীর্ঘদিন গ্যাস অনুসন্ধান বন্ধ ছিল, মাটির নিচে তো আপনি মাটি খুঁড়লেই গ্যাস পাবেন না। যদি পাঁচটা খনন করেন, হয়তো একটাতে আপনি সফল হতে পারেন। কূপ খনন করার আগেও সম্ভবত যাচাই করেই তারপরে কূপ খনন করা হয়।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরে এই কূপ খননে, মানে আমাদের দেশের মাটির নিচ থেকে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। বাপেক্স এবং বাপেক্সের অধীনে বিদেশি প্রতিষ্ঠানও এই কূপ খননের দায়িত্বে নিয়োজিত আছে। আমাদের এটাও একটা প্রত্যাশা, এই সমস্ত অনুসন্ধানের মাধ্যমে আগামী দিনে আমরা বেশকিছু গ্যাস আমাদের মাটি থেকে পাব। কিন্তু সেটা দিন তারিখ বা পরিমাণ, এটা তো কেউই বলতে পারে না।
এসময় তিনি জানান, আমরা আমদানি করে যে গ্যাসটা আনি, সেটার পরিমাণ ইচ্ছা করলেও কেউ বাড়াতে পারবে না, যতক্ষণ না আরও ভাসমান সংরক্ষণ ও পুনঃগ্যাসীকরণ ইউনিট স্থাপন করা হয়।
সময়ের প্রসঙ্গে তিনি জানান, এখন ভাসমান সংরক্ষণ ও পুনঃগ্যাসীকরণ ইউনিট, এটা এমন কোনো জিনিস না যে আপনি কোনো জায়গা থেকে নিচ থেকে গিয়ে তৈরি অবস্থায় নিয়ে আসবেন, এটা তৈরি করতে হয়। সেটার জন্য বছর দুই-তিন সময় লাগে। আর যেখানে ভাসমান সংরক্ষণ ও পুনঃগ্যাসীকরণ ইউনিট আসবে সমুদ্রের, এটা তো একদম মাটিতে আসতে পারে না। যে পর্যন্ত পানির গভীরতা, এই ড্রাফট, এখান পর্যন্ত আসতে পারে। মাটির কাছাকাছি, সেই জায়গা থেকে মূল গ্রিড লাইনে একটা সংযোগকারী পাইপ লাগে। সেই পাইপটা আসে সমুদ্রের পানির নিচ দিয়ে, সেটি করতে প্রায় বছর দুয়েক সময় লাগে। আমি আশা করি চ্যালেঞ্জগুলি আপনাদের সামনে স্পষ্ট। তো এই সমস্যাগুলো মিটিয়ে নতুন ভাসমান সংরক্ষণ ও পুনঃগ্যাসীকরণ ইউনিট স্থাপন করা, পাইপলাইন সেট করা, এবং এটা করার জন্য দুইটা বছর সময় দরকার।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রচলিত ব্যবস্থার বাইরে একটা উদ্যোগ নিয়েছেন, সেটি হচ্ছে মালয়েশিয়ান সরকারের যে সংস্থা পেট্রোনাস, তাদের মাধ্যমে বড় জাহাজে করে গ্যাস এনে এলএনজি এনে ছোট ছোট জাহাজে স্থানান্তর করে সেটি আমাদের বিভিন্ন জায়গায় গ্রিডে, মানে পুনঃগ্যাসীকরণ ইউনিটের মাধ্যমে গ্যাসে রূপান্তর করে সে সমস্ত জায়গায় দেওয়া। কিন্তু পেট্রোনাসের যে সমস্ত জাহাজ, সবগুলো কোনো না কোনো জায়গায় এনগেজ। তাদের হাতে এই মুহূর্তে খালি সক্ষমতা নেই। তো প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জ্বালানি মন্ত্রণালয়, আমরা সবাই এটির জন্য কাজ করছি।
তিনি জানান, যে পরিস্থিতিটা আপনারা পেয়েছেন, সেটা উত্তরাধিকার সূত্রে। এই জিনিসটা সবার বুঝতে হবে। আর মৌসুমি কারণে, প্রয়োজনটা বাড়ে। যেমন এখন গরমের সময়, এখন যে বিদ্যুতের চাহিদা- এটা যদি ডিসেম্বর মাস হতো, তাহলে উল্লেখযোগ্যভাবে সেটা চাহিদাটা কমে যেত।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রসঙ্গে তিনি জানান, যে বছর ফ্যাসিস্ট সরকার বিদায় নেয়, সেই বছরের এই সময়কার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পরিসংখ্যানটা নেন। আপনারা যে সমস্ত সংবাদপত্র বা গণমাধ্যমের প্রতিনিধিত্ব করেন, আপনাদের দুই বছর আগের এই দিনের ফেরত যান। দেখেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাট কতটুক ছিল?
মন্ত্রী মুক্তাদির বলেন, আর বিগত ৫-৭ দিন, ১০ দিন, হঠাৎ করে পরিস্থিতিটা একটু বেশি খারাপ হওয়ার কারণ হলো—আমাদের যে দুটি ভাসমান সংরক্ষণ ও পুনঃগ্যাসীকরণ ইউনিট, তার একটাতে গ্যাস পড়তে না পারা, আর আরেকটার বয়লার নষ্ট হয়ে যাওয়া।
তিনি আরও বলেন, একটা ভাসমান সংরক্ষণ ও পুনঃগ্যাসীকরণ ইউনিট আবার গ্যাস ভরা শুরু হয়েছে, যেটার ফল আপনারা পাচ্ছেন এখন। আর উন্নতি হয়েছে, আরও উন্নতি হবে। আর আরেকটা ভাসমান সংরক্ষণ ও পুনঃগ্যাসীকরণ ইউনিটতে একটা বয়লার ঠিক হয়েছে, আরেকটা বয়লার ঠিক করার জন্য কাজ চলছে। এটির কাজ সম্পূর্ণ হলে আপনারা দুটি ভাসমান সংরক্ষণ ও পুনঃগ্যাসীকরণ ইউনিটের পুরো গ্যাস যদি আমরা পাই, তাহলে আমরা মনে করেন আজকে থেকে এক মাস আগের অবস্থায় আবার ফেরত যাব।
মাসুদ আহমদ রনি/এসএইচএ
