বিজ্ঞাপন

জয়পুরহাটে চোর সন্দেহে যুবকের মৃত্যু, গ্রেপ্তার ৪

জয়পুরহাটে চোর সন্দেহে যুবকের মৃত্যু, গ্রেপ্তার ৪

জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে চোর সন্দেহে বাদশা (২৭) নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৫ আগস্ট) রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে শনিবার ভোরে ক্ষেতলাল উপজেলার মহব্বতপুর পদ্মপুকুর এলাকা থেকে বাদশার মরদেহ এবং অপর যুবক মাজেদুল ইসলামকে (২০) আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- জয়পুরহাট সদর উপজেলার জামালগঞ্জ ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার এবং দিনাজপুরের পার্বতীপুর থানার রিয়াজপাড়ার বাসিন্দা আজিমুল হক (৩৫), ওই তেল পাম্পের কর্মচারী ও লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ থানার উত্তর বানার সাইফুল ইসলাম সজীব (৩১), ক্ষেতলাল উপজেলার মহব্বতপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম (৩০) এবং জয়পুরহাট সদর উপজেলার বেলতলা গ্রামের বাসিন্দা আমজাদ আলী (২০)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে জামালগঞ্জ চারমাথা এলাকার একটি তেল পাম্প এলাকায় কয়েকজন বাদশা ও মাজেদুলকে চোর সন্দেহ করেন। পরে কয়েকজন তাদের ধরে মোটরসাইকেলে করে মহব্বতপুর পদ্মপুকুর এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে তাদের জোরপূর্বক চুরি করেছে বলে স্বীকার করতে বলা হয়। এরপর ৯ জন মিলে তাদের মারধর করেন। একপর্যায়ে তারা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

শনিবার ভোরে কয়েকজন কৃষক ওই এলাকায় মাছ ধরতে যাওয়ার সময় দুই জনকে পড়ে থাকতে দেখেন এবং বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাদশার মরদেহ উদ্ধার করেন এবং আহত অবস্থায় মাজেদুল ইসলামকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আরিফ হোসেন বলেন, জামালগঞ্জ তেল পাম্পে একটি বাস দাঁড়ানো ছিল। ওই বাসের ছাদে বাদশা উঠেছিল। তখন সেখানকার লোকজনের সন্দেহ হয় যে বাসের চাকা চুরির উদ্দেশ্যেই সে ছাদে উঠেছে। এই চোর সন্দেহে দুজনকে পিটুনি দেওয়া হয়। এতে একজনের মৃত্যু হয় এবং অপরজন আহত হন।

​তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় ক্ষেতলাল থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। মামলার পর চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা মারধরের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

চম্পক কুমার/আরকে