বিজ্ঞাপন

মাগুরার হাটে কুমড়ো ফুলের কদর, কৃষকের বাড়তি আয়

মাগুরার হাটে কুমড়ো ফুলের কদর, কৃষকের বাড়তি আয়

শ্রাবণের বৃষ্টিভেজা সকাল। চারপাশে কাদামাটির গন্ধ, হাটে সবজির পসরা। এর মাঝেই হলুদ রঙের ছোট ছোট ফুল যেন আলাদা করে নজর কাড়ছে। মাগুরার শালিখা উপজেলার নবগঙ্গার কূলঘেঁষা ঐতিহাসিক গঙ্গারামপুর বাজারে এখন এমনই দৃশ্য। খেত থেকে তুলে আনা তাজা মিষ্টি কুমড়োর ফুল ও শাক নিয়ে প্রতিদিন হাটে আসছেন আশপাশের গ্রামের কৃষকেরা। এক সময় গৃহস্থের বাড়ির রান্নাঘরেই যার ব্যবহার সীমাবদ্ধ ছিল, সেই কুমড়ো ফুল এখন হয়ে উঠেছে কৃষকের বাড়তি আয়ের অন্যতম উৎস।

সরেজমিনে দেখা যায়, গঙ্গারামপুর বাজারের সবজির সারিতে সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে সাজানো কুমড়ো ফুলের হলুদ রং ক্রেতাদের সহজেই আকৃষ্ট করছে। স্থানীয় কৃষকেরা ভোরে ক্ষেত থেকে ফুল ও শাক সংগ্রহ করে নিয়ে আসছেন বাজারে। চাহিদা থাকায় খুব একটা সময়ও লাগে না বিক্রি হতে।

স্থানীয় ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতিটি কুমড়ো ফুল প্রায় ৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি কেজি কুমড়ো ফুল বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত। ফলে নিজেদের ক্ষেতের অতিরিক্ত উৎপাদন বাজারে বিক্রি করে কৃষকেরা পাচ্ছেন বাড়তি আয়।

বাজারে কুমড়ো ফুল কিনতে আসা গৃহিণী নার্গিস বলেন, ‘কুমড়ো ফুলের তৈরি চপ ও বড়া খুবই সুস্বাদু। পরিবারের সবাই পছন্দ করে। তাই মাঝেমধ্যেই বাজারে এলে কুমড়ো ফুল কিনি।’

স্থানীয় বিক্রেতারা বলছেন, গঙ্গারামপুর বাজারে কুমড়ো ফুল ও শাকের নিয়মিত চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে বর্ষার মৌসুমে অনেকেই তাজা কুমড়ো ফুল কিনতে বাজারে আসেন। ফলে ক্ষেত থেকে সংগ্রহ করা এসব সবজি বিক্রি করে কৃষকেরা সংসারের খরচের পাশাপাশি কিছু বাড়তি অর্থও আয় করতে পারছেন।

কুমড়ো ফুল শুধু স্বাদেই নয়, পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। ফুল ও কচি ডগা দিয়ে ভাজি, তরকারি, বড়া কিংবা পকোড়া তৈরি করা হয়। গ্রামবাংলার ঘরোয়া রান্নায় এর জনপ্রিয়তা দীর্ঘদিনের। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত তাজা কুমড়ো ফুল ও শাক হওয়ায় ক্রেতাদের কাছেও এর আলাদা কদর রয়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, কুমড়ো ফুলের বাজার আরও সম্প্রসারিত করা গেলে এটি কৃষকদের জন্য ভালো একটি বাড়তি আয়ের উৎস হতে পারে। তবে এজন্য প্রয়োজন বাজারজাতকরণ সুবিধা ও কৃষকদের যথাযথ পরামর্শ।

শালিখা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবুল হাসনাত বলেন, ‘কুমড়ো ফুল নিঃসন্দেহে একটি পুষ্টিকর খাবার। সাধারণত পরাগায়নের পর এসব ফুল গাছ থেকে সংগ্রহ করে খাওয়া যায় এবং ভালো দামেও বিক্রি করা সম্ভব। আমাদের উচিত কুমড়ো ফুলের প্রতি খাদ্যাভ্যাস তৈরি করা। এতে একদিকে যেমন মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণ হবে, অন্যদিকে এটি গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম উৎস হতে পারে।’

তাছিন জামান/আরকে