বিজ্ঞাপন

মৌসুমের শেষেও কানসাট আমের বাজারে জমজমাট বেচাকেনা

মৌসুমের শেষেও কানসাট আমের বাজারে জমজমাট বেচাকেনা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের মৌসুম শেষের দিকে। তবে মৌসুমের শেষভাগে আশ্বিনা, বারি-৪, বারি-৮, গৌড়মতি, কাটিমন ও ব্যানানা ম্যাঙ্গোসহ বিভিন্ন নাবি ও বারোমাসি জাতের আমকে ঘিরে জেলার বৃহত্তম কানসাট আমের বাজারে আবারও প্রাণ ফিরেছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মণ আম বেচাকেনা হচ্ছে। মৌসুমের শেষ সময়েও বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।

বর্তমানে কানসাট আমের বাজারে আশ্বিনা আম ব্যাগিং করা গুলো ২২০০ থেকে ২৫০০ টাক মণে এবং ব্যাগিং ছাড়া গুলো ৩০০০ থেকে ৩৫০০ টাকা মণ, গৌড়মতি ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা মণ এবং কাটিমণ সাড়ে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।

শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাটের আমচাষি আশরাফুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমের শেষ মুহূর্তে কাটিমন আম ৬ হাজার থেকে আট হাজার মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে উৎপাদন ব্যয় বিবেচনায় এ দাম সন্তোষজনক নয়।

কানসাটে দীর্ঘ এক যুগ ধরে অনলাইনে আমের ব্যবসা করে আসছেন ব্যবসায়ী মো. ওয়াহিদ। তিনি বলেন, মৌসুমের মাঝামাঝি কয়েকদিন বাজার কিছুটা চাঙা ছিল। মৌসুমজুড়ে বাজারে স্থিতিশীলতা ছিল না। তবে চলতি বছর লাভজনক ব্যবসা করেছেন।

শিবগঞ্জের আমচাষি ইসমাইল হোসেন খান বলেন, জেলার অন্য চার উপজেলার সম্মিলিত উৎপাদনের চেয়েও বেশি আম উৎপাদন হয় শিবগঞ্জ উপজেলায়। একসময় এখানকার প্রায় ৮০ শতাংশ বাগানে ফজলি আমের চাষ হলেও বর্তমানে তা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় অনেক চাষি ফজলির পরিবর্তে নতুন জাতের নাবি আম চাষের দিকে ঝুঁকছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও কৃষি উদ্যোক্তা মুঞ্জের আলম বলেন, প্রায় ১৫ বছর ধরে কৃষির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও আমচাষে কাঙ্ক্ষিত লাভ মিলছে না। উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও বাজারমূল্য সেই অনুপাতে বাড়েনি। চাঁপাইনবাবগঞ্জের ক্ষীরসাপাতি, ল্যাংড়া, ফজলি ও আশ্বিনা আম ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে। জেলার লক্ষাধিক মানুষের জীবিকা আমের সঙ্গে জড়িত। তাই এ খাতকে টিকিয়ে রাখতে আম প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে তোলা, গবেষণা কার্যক্রম জোরদার এবং একটি পূর্ণাঙ্গ আম গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি।

ঢাকা থেকে আসা আমের ব্যাপারী মোরশেদ খান জানান, তিনি সরাসরি আমের মান দেখে কানসাট আড়তদারদের কাছে আম ক্রয় করেন। ভালো পরিচর্যায় ঢাকায় আম পাঠাতে পারলে  আর কোনো রিস্ক থাকে না। তিনি বংশ পরম্পরায় আমের ব্যবসা করেন। এ বছর তিনি লাভে আছেন বলেও জানান।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আতিকুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৯১২ মেট্রিক টন। মৌসুমের শেষভাগেও বাজারে নাবি জাতের আমের সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে এবং চাষিরা কাঙ্ক্ষিত মূল্য পাচ্ছেন।

আশিক আলী/আরএআর

বিজ্ঞাপন