বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জুলাই হচ্ছে দীর্ঘদিনের সঞ্চিত ক্ষোভের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। জুলাই চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করে আমাদের বহুদলীয় গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে যেন পুনরায় ফ্যাসিবাদের আগমন না ঘটে।
রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট ভবনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান- ২০২৪ এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপন উপলক্ষে জুলাইয়ের চেতনা ও আগামীর বাংলাদেশ আলোচনা সভায় তিনি এসব বলেন।
তিনি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্বকে তারা মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে। শুধুমাত্র ক্ষমতায় টিকে থাকতে পার্শ্ববর্তী দেশ দিল্লির কাছে সবকিছু উজাড় করে দিয়েছে। সে (শেখ হাসিনা) কাউকে পাত্তা দেয়নি, সবাইকে উপেক্ষা করে পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রেখেছে। শুধুমাত্র তার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য। ক্ষমতায় টিকে থাকতেই সে এত রক্ত ঝরিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দুঃশাসনের নানা চিত্র ছিল, রিমান্ড, গুম-খুন এমন কোন অপরাধ নেই যা শেখ হাসিনা করেনি। শেখ হাসিনা সঙ্গে পৃথিবীর অন্য কোনো ফ্যাসিস্টের মিল নেই। হিটলারসহ পৃথিবীর অনন্য ফাসিস্টদের মধ্যে দেশপ্রেম ছিল। তারা চেয়েছে তাদের দেশকে পৃথিবীর মধ্যে সেরা হিসাবে প্রমাণ করতে। কিন্তু শেখ হাসিনা চেয়েছে নিজেদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব বিক্রি করে হলেও ক্ষমতায় টিকে থাকতে। এজন্যই জনগণের উপর সব ধরনের অত্যাচার করেছে, রক্ত ঝরিয়েছে।
রিজভী বলেন, ফেরারি পাখিরা কখনো ফেরে না। শেখ হাসিনাও ফিরতে পারবে না। তবে ফিরতে পারত, যদি তাকে জোর করে দেশ থেকে বের করা হতো। লেলিন ফিরেছে, ইমাম খামেনি ফিরেছে কারণ তারা দেশের টাকা পাচার করেনি, প্লট নেয়নি, ব্যাংকের টাকা মেরে খায়নি। এজন্য তারা ফিরতে পেরেছে। তবে আমাদের মধ্যে ঐক্য না থাকলে ফ্যাসিস্ট অন্য কোনো রুপে ফিরে আসার চেষ্টা করতে পারে।
এ সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর এ এস এম আমানুল্লাহ বলেছেন, জুলাইয়ের শহীদদের স্মৃতির প্রতি যথাযথ সম্মান জানাতে হলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী এগিয়ে নিতে হবে। সে লক্ষ্যেই আমরা ‘কোয়ালিটি এডুকেশন’, ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’, ভাষা শিক্ষা এবং দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)সহ আধুনিক ও প্রধান প্রযুক্তিগুলো কীভাবে শিক্ষাব্যবস্থায় যুক্ত করা যায় এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়েও আমরা কাজ করছি।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর মো. লুৎফর রহমান, ট্রেজারার প্রফেসর ডষ মো. নাজমুল হোসাইন প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক সমন্বয় দপ্তরের পরিচালক আমিনুল আক্তার ও কলেজ পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) নাজিম উদ্দীন আহমেদ।
আশিকুর রহমান/আরকে
