বিজ্ঞাপন

ববি হাজ্জাজ

দুই-তিন বছরের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা হবে

দুই-তিন বছরের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা হবে

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে নতুন শিক্ষক নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। নীতিমালায় শিক্ষক পদ বাড়ানো, প্রধান শিক্ষকদের দায়িত্ব নির্ধারণ ও বেতন কাঠামো উন্নীত করার বিষয়গুলো রাখা হচ্ছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) ময়মনসিংহে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) অডিটোরিয়ামে প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে আয়োজিত কর্মশালায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) নতুন শিক্ষক নীতিমালা তৈরির কাজ করছে। শিগগিরই নীতিমালার প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। পরে মন্ত্রণালয় তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে।

ববি হাজ্জাজ জানান, শিক্ষকসংকট নিরসনে নিয়োগ কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মামলা ও বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন নিয়োগে সমস্যা ছিল। তবে এরই মধ্যে অনেক জটিলতা কাটিয়ে ওঠা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, প্রায় সাড়ে ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এসব পদে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে নিয়োগ দিতে হবে। দ্রুত নিয়োগের বিষয়ে পিএসসির সঙ্গে আলোচনা চলছে। এছাড়া প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার নতুন শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে আরও শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষার্থীরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাচ্ছে নাকি অন্য কোনো বিদ্যালয়ে যাচ্ছে, সেটি মূল বিষয় নয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সব শিশু বিদ্যালয়ে যাচ্ছে কি না এবং তারা মানসম্মত শিক্ষা পাচ্ছে কি না।

তিনি আরও বলেন, ৪ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের যারা শিক্ষা দেবে, সরকারি-বেসরকারি সব বিদ্যালয়কে একটি নীতিমালার আওতায় আনার কাজ চলছে। সরকারের লক্ষ্য কোনো শিশুই যেন বিদ্যালয়ের বাইরে না থাকে।

প্রাথমিক শিক্ষায় ধর্মীয় শিক্ষা, মূল্যবোধ ও নাগরিক শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ধর্মীয় শিক্ষাকে আরও কার্যকরভাবে কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করার কাজ চলছে। প্রয়োজনে স্থানীয় পর্যায়ে ধর্মীয় শিক্ষক যুক্ত করার বিষয়টিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

ববি হাজ্জাজ আরও বলেন, সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের পরিকল্পনার মধ্যে কারিকুলাম উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, নতুন শিক্ষক নীতিমালা ও প্রশাসনিক নীতিমালা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন ও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আনা ও ধরে রাখতে মধ্যাহ্নভোজ, বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, জুতা ও ব্যাগ দেওয়ার মতো বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ময়মনসিংহ বিভাগের ৪ জেলার প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে আয়োজিত কর্মশালাটি ৫ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলে। এতে বিদ্যালয় পরিচালনা, শিক্ষার্থীদের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা এবং বিদ্যালয়ের সঙ্গে কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

সাখাওয়াত সুমন/এমএমবি