বিজ্ঞাপন

সোনারগাঁয়ের বারদী-বিষ্ণুপুরা সড়কের ৯ কিলোমিটার খানাখন্দে ভরা

সোনারগাঁয়ের বারদী-বিষ্ণুপুরা সড়কের ৯ কিলোমিটার খানাখন্দে ভরা

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বারদী বাজার থেকে অলিপুরা বাজার হয়ে সাদিপুর ইউনিয়নের কাজহরদী বিষ্ণাপুরা ব্রিজ পর্যন্ত সড়কটি দীর্ঘ দিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় বেহাল হয়ে পড়েছে। প্রায় ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি এখন চলাচলের জন্য খুবই অনুপযোগী। খানাখন্দ, উঁচু-নিচু ঢিবি ও গর্তের কারণে প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এ কারণে যানজটও এখন এই সড়কের নিত্যদিনের চিত্র।

এই সড়ক দিয়েই দেশের অন্যতম সনাতন ধর্মীয় তীর্থস্থান বারদীর শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর আশ্রমে প্রতিদিন শত শত ভক্ত ও দর্শনার্থী যাতায়াত করেন। কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে তাদেরও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে যাওয়ায় যান চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সোনারগাঁ অংশের প্রায়  ৯ কিলোমিটার সড়কের সাদিপুর ইউনিয়নের কাজহরদী বেলপাড়া উঁচু-নিচু ঢিবি ও খানাখন্দে ভরা, সনমান্দী ইউনিয়নের অলিপুরা বাজার, ফতেপুর দড়িকান্দী, চকবাজার অবস্থাও বেহাল এবং বারদী ইউনিয়নের বারদী বাজার এলাকায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও কার্পেটিং উঠে গিয়ে সড়কটি খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। বৃষ্টির পর এসব গর্তে পানি জমে থাকে।ফলে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। সড়কটি বন্দর উপজেলার কাজীপাড়া শ্রীরামপুর হয়ে সরাসরি কেওঢালা ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে সংযুক্ত। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন এই পথে চলাচল করে। কিন্তু রাস্তার বেহাল অবস্থায় দুর্ভোগের শেষ থাকে না। বিশেষ করে ইজিবাইক, মোটরসাইকেল, রিকশা ও সিএনজিচালিত যানবাহন গর্তে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আবার গর্তে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় সতর্কতার সঙ্গে যানবাহন চলাচল করছে। এতে যানজট লেগে থাকে সড়কটিতে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার জামপুর, সাদিপুর, সনমান্দী, বারদী ও নোয়াগাঁও ইউনিয়নের বাসিন্দারা ছাড়াও আড়াইহাজার উপজেলার উচিৎপুরা, খাগকান্দা ও কালাপাহাড়িয়া এবং কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার একাংশের মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন। প্রায় ১ লক্ষাধিক লোক চলাচল করে এই রাস্তায় প্রতিদিন। সামান্য বৃষ্টি হলেই গর্তে পানি জমে যায়। এতে রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ ছোট যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। রাতের বেলায় গর্তে পড়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়কটি সংস্কারের দাবিতে একাধিকবার মানববন্ধন ও লিখিত আবেদন করা হলেও এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

ইজিবাইকচালক ইমন বলেন, রাস্তার খারাপ অবস্থার কারণে আমাদের গাড়ি প্রতিদিন নষ্ট হচ্ছে। অনেক যাত্রী এই রাস্তা দিয়ে যেতে চান না। আমাদের আয় অর্ধেক কমে গেছে।

অলিপুরা বাজারের ব্যবসায়ী রুবেল সরকার বলেন, অলিপুরা বাজারের এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি জমে কাদা সৃষ্টি হয়। এতে ক্রেতারা বাজারে আসতে অনীহা প্রকাশ করেন এবং আমাদের ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা হলে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ সবাই উপকৃত হবেন।

পঞ্চমীঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইয়ামিন বলেন, প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে স্কুলে যাতায়াত করি। বড় বড় গর্ত ও কাদার কারণে চলাচলে অনেক কষ্ট হয়। অনেক সময় পিছলে পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে। দ্রুত সড়কটি মেরামত করা হলে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ কমবে।

কাজহরদী এলাকার বাসিন্দা মো. শাহজালাল বলেন, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয়। ভাঙাচোরা রাস্তা ও জলাবদ্ধতার কারণে যাতায়াতে অতিরিক্ত সময় লাগে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও থাকে। জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা প্রয়োজন।

সিএনজিচালক ইমাম হাসান বলেন, এই ভাঙাচোরা সড়ক দিয়ে প্রতিদিন যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে খুব কষ্ট হয়। গর্ত এড়িয়ে গাড়ি চালাতে গিয়ে সময় বেশি লাগে, আবার গাড়ির যন্ত্রাংশও দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। অনেক যাত্রী এই সড়কে যেতে চান না।

শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর আশ্রমে আসা দর্শনার্থী তীর্থ বনি্ বলেন, রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে নির্ধারিত সময়ে আশ্রমে এসে পূজা দিতে পারিনি। ভাঙাচোরা সড়ক ও টানা বৃষ্টির কারণে কয়েক ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয়েছে।

সোনারগাঁ উপজেলা প্রকৌশলী সোহেল রানা বলেন, আমি সম্প্রতি সোনারগাঁ উপজেলায় যোগদান করেছি। সড়কটির বেহাল অবস্থার বিষয়টি জেনেছি। মানুষের দুর্ভোগ কমাতে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে যত দ্রুত সম্ভব জিওভি মেনটেনেন্সের মাধ্যমে সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু করার চেষ্টা করছি।

মো. মীমরাজ হোসেন/এএমকে

বিজ্ঞাপন