বিজ্ঞাপন

ছুরিকাঘাতে এআইইউবি শিক্ষার্থী সীমান্ত হত্যা, ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

ছুরিকাঘাতে এআইইউবি শিক্ষার্থী সীমান্ত হত্যা, ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশের (এআইইউবি) শিক্ষার্থী মো. ওয়াজেদ সীমান্ত হত্যার ঘটনায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের আদালত।

রোববার (১৭ আগস্ট) দুপুর পৌনে ১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আবু শামীম আজাদ আলোচিত এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- অনিক, আকাশ ও চান্দি বাবু। রায় ঘোষণার সময় তিনজনই আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

নিহত সীমান্ত দেওভোগ এলাকার মো. আলম পারভেজের ছেলে। তিনি এআইইউবির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।

মামলার আইনজীবী মোহাম্মদ নাজিবুল্লাহ বিপু বলেন, মামলায় মোট ২৭ জন সাক্ষী ছিলেন। এর মধ্যে ২৪ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও মামলার নথি পর্যালোচনা শেষে আদালত তিন আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।

২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর সকাল ছয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন ২০ বছর বয়সী ওয়াজেদ সীমান্ত। নারায়ণগঞ্জ নগরের দেওভোগ এলাকায় মিন্নত আলী শাহ্ সাহেবের মাজারের সামনে পৌঁছালে পথরোধ করে ছিনতাইকারীরা।

ছিনতাইকারীরা তার কাছ থেকে মুঠোফোন ও নগদ ১ হাজার ৮০০ টাকা নিয়ে যায়। এ সময় বাধা দেওয়ায় সীমান্তকে ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। ২ দিন পর ১৪ ডিসেম্বর রাত ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সীমান্ত।

আদালত সূত্র ও মামলার আইনজীবীর তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামির বিরুদ্ধেই আগের একাধিক মামলা রয়েছে। অনিকের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা রয়েছে। আর আকাশের বিরুদ্ধে রয়েছে ১০টি মামলা। তার বিরুদ্ধে ছিনতাই, মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে।

অন্যদিকে চান্দি বাবুর বিরুদ্ধেও পুরোনো হত্যা মামলার অভিযোগ রয়েছে। আইনজীবী জানান, ২০২০ সালে নগরের দ্বিগুবাবুর বাজার এলাকায় ভোরে এক সবজি ব্যবসায়ীকে ছিনতাইয়ের সময় হত্যার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল।

ছেলের হত্যার ঘটনায় আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত সীমান্তের বাবা হাজী মোহাম্মদ আলম পারভেজ। তিনি দণ্ড দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।

মেহেদী হাসান সৈকত/এসএইচএ