ফরিদপুরের মধুখালীতে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় জামাল মোল্লা (৬৫) নামে এক ব্যক্তিকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও তিন বছরের জন্য বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় দেন। রায় প্রদানের সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ পাহারায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, জামাল মোল্লা (৬৫) মধুখালী উপজেলার মাচকান্দি পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা। ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে শিশুটি দর্জির বাড়িতে নতুন জামা-কাপড় আনতে যায়। ওই সময় দর্জি বাড়িতে ছিল না। এ সময় জামাল মোল্লা শিশুটিকে তার বসতঘরের ভেতরে নিয়ে মুখ চেপে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।
একপর্যায়ে শিশুটি আসামির হাত থেকে ছুটে চিৎকার করে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। শিশুটির চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় পরদিন ৪ জানুয়ারি শিশুটির বাবা বাদী হয়ে জামাল মোল্লাকে একমাত্র আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মধুখালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
এ মামলাটি তদন্ত করেন মধুখালি থানার উপপরিদর্শক(এসআই) মো. মোক্তার হোসেন। ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি তিনি জামালকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দায়ের করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দিয়েছেন। শিশুদের নিরাপত্তা ও এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে আইনের যথাযথ প্রয়োগ গুরুত্বপূর্ণ। আদালতের এ রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আশা করি সমাজের অপরাধীরা এই রায় থেকে শিক্ষা নিবে।
জহির হোসেন/এসএইচএ
