লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে পুলিশের দায়েরকৃত মামলায় মো. রিমন নামে গ্রেপ্তার সেই স্কুলছাত্র জামিন পেয়েছে। ‘প্রতি সোমবার আদালতে উপস্থিত ও নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিলসহ কোনো কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবে না’ এই দুই শর্তে আদালত তাকে জামিন দেন।
গ্রেপ্তারের ১৫ দিন পর সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. সাদেকুর রহমান এ জামিন মঞ্জুর করেন। আসামি পক্ষের আইনজীবী আব্দুর রব সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আইনজীবী আব্দুর রব সুমন বলেন, ২ আগস্ট বিকেলে চররমিজ ইউনিয়নের চরমেহার গ্রাম থেকে রিমনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে পুলিশের দায়েরকৃত মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন। ৩ আগস্ট পুলিশ তাকে আদালতে সোপর্দ করে। পরে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে গাজীপুরে শিশু-কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠায়। প্রতি সোমবার আদালতের উপস্থিত হওয়ার নির্দেশনা এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রমে অংশগ্রহণে মৌখিক নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বিচারক তার জামিন মঞ্জুর করেছেন।
তিনি আরও বলেন, রিমন স্কুলছাত্র। জন্মনিবন্ধন অনুযায়ী তার বয়স ১৪ বছর ২ মাস। তবে মামলার এজাহারে রিমনের নাম উল্লেখ করা হয় বাচ্চু প্রকাশ রিপন এবং বয়স দেওয়া হয় ১৯ বছর। জন্ম নিবন্ধনের সঙ্গে নাম কিংবা বয়সের মিল দেখা যায়নি। এছাড়া আদালতে সোপর্দ করার সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান তার (রিমন) নাম সংশোধন করলেও বয়স দেখিয়েছে ১৩ বছর ১১ মাস ২৯ দিন।
জামিনপ্রাপ্ত রিমন রামগতি উপজেলার চর রমিজ ইউনিয়নের চরমেহার গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে ও রামগতি উপজেলার চর মেহার আজিজিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ব্যবসা শাখার ছাত্র।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ৩০ মে সকালে চর আলগী ইউনিয়নের চরনেয়ামত গ্রামের মধ্য পূর্ব আলেকজান্ডার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বহুমুখী দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্রের নিচে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়। এসময় তারা ‘মুজিব তোমার স্মরণে, ভয় করি না মরণে, শেখা হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে, আমরা সবাই মুজিব সেনা, ভয় করি না বুলেট বোমা, শেখ হাসিনার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’সহ বিভিন্ন উস্কানিমূলক স্লোগানসহ জননিরাপত্তা বিপন্ন ও আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন ঘটাতে ঝটিকা মিছিল করে। তারা তাদের কার্যক্রম বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারের জন্য ভিডিও ধারণ করে। এ ঘটনায় ৪ জুন রামগতি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ময়নাল হোসেন বাদী হয়ে রিমনসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন।
হাসান মাহমুদ শাকিল/এসএইচএ
