ফজরের সুন্নত নামাজের দ্বিতীয় রাকাতে সেজদায় গিয়ে আর ওঠা হলো না হাফেজ মুহাম্মদ আতাউল্লাহর (৩৫)। সেজদারত অবস্থাতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। সোমবার (১৭ আগস্ট) ভোরে পটুয়াখালী সদর উপজেলার মৌকরন ইউনিয়নের শ্রীরামপুর বাজার মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।
মৃত হাফেজ মুহাম্মদ আতাউল্লাহ দুমকী উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তালুকদার বাজারসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা মাওলানা আব্দুস সালাম। তিনি ছিলেন বাবার একমাত্র সন্তান। আতাউল্লাহ পটুয়াখালীর জামিয়া আশরাফিয়া মাদরাসায় পড়াশোনা করেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তানের জনক।
স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, প্রতিদিনের মতো সোমবার ভোরে ফজরের নামাজ আদায়ের প্রস্তুতি নেন মসজিদের ইমাম আতাউল্লাহ। সুন্নত নামাজের দ্বিতীয় রাকাতে সেজদায় যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি আর ওঠেননি। বিষয়টি দেখে মুসল্লিদের সন্দেহ হলে কাছে গিয়ে তাকে সেজদারত অবস্থায় মৃত পাওয়া যায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় দেড় বছর ধরে শ্রীরামপুর বাজার মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন আতাউল্লাহ। ইমামতির পাশাপাশি স্থানীয়দের সঙ্গেও তার ছিল আন্তরিক সম্পর্ক। নম্র, ভদ্র ও শান্ত স্বভাবের কারণে তিনি মুসল্লি ও এলাকাবাসীর কাছে ছিলেন অত্যন্ত প্রিয়।
এক প্রতিবেশী বলেন, আতাউল্লাহ খুব ভালো ও শান্ত মানুষ ছিলেন। সবার সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলতেন। কারো সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে দেখিনি। নিয়মিত নামাজ পড়তেন। তার এমন আকস্মিক মৃত্যু মেনে নেওয়া আমাদের জন্য খুবই কষ্টের।
আতাউল্লাহর মামাতো ভাই মহিবুল্লাহ বলেন, আতাউল্লাহ তার বাবার একমাত্র সন্তান ছিলেন। তার দুটি ছোট সন্তান রয়েছে। পরিবারের জন্য তিনি ছিলেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন মানুষ। ছোট ছোট সন্তানকে রেখে এভাবে চলে যাওয়ায় স্বজনেরা ভেঙে পড়েছেন।
এদিকে ইমামের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে মসজিদের মুসল্লি, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। শেষবারের মতো তাকে দেখতে সকালে বাড়ি ও মসজিদে ভিড় করেন স্বজন, মুসল্লি ও স্থানীয়রা।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার জোহরের নামাজের পর শ্রীরামপুর বাজার মসজিদের সামনে আতাউল্লাহর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে আসরের নামাজের পর তার নিজ বাড়িতে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার হয়।
এসএম আলমাস/এসএইচএ
