কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ে ডা. মুহাম্মদ শামশুল হুদা (৬৮) নামে এক চিকিৎসকের কাছে ৩০ লাখ টাকা দাবি এবং টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে ঈদগাঁও থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি।
অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন- ঈদগড় হাইস্কুলের লাইব্রেরিয়ান শামসুল আলম (৩৮), সাহাব উদ্দিন (৬০) এবং তার ছেলে ওমর ফারুক সোহাগ (২৪)। তাদের বাড়ি ঈদগাঁও উপজেলার পোকখালী ইউনিয়নের পশ্চিম ইছাখালী এলাকায়।
ভুক্তভোগী ডা. শামশুল হুদার অভিযোগ, গত ১৫ আগস্ট দুপুর সাড়ে ২টার দিকে শামসুল আলম ঈদগাঁও বাজারের আধুনিক হাসপাতালে তার চেম্বারে যান। সেখানে তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়। একপর্যায়ে তার কাছে ৩০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। শামসুল আলম ভয় দেখানোর সময় তার কাছে তিনটি অবৈধ অস্ত্র থাকার কথা জানান।
ডা. শামশুল হুদা জানান, তার দখলে থাকা ১১০ কড়া ধানিজমি রেজিস্ট্রি কবলা দলিলের মাধ্যমে শামসুল আলমের কাছে বিক্রি করেন। পরে ওই জমির নামে খতিয়ানও সৃজন করা হয়। জমিটিতে অন্য কয়েকজন ব্যক্তি দখলের চেষ্টা করলে শামসুল আলমের পক্ষে তিনি আদালতে আইনি লড়াই চালিয়ে আসছিলেন। সম্প্রতি সেই জমির পার্শ্ববর্তী অন্য জমিতে শামসুল হুদার নিয়োগকৃত চাষিরা চাষাবাদ করতে গেলে শামসুল আলম, সাহাব উদ্দিন ও ওমর ফারুক সোহাগসহ কয়েকজন তাদের বাধা দেন।
এ ঘটনায় গত ১৪ আগস্ট ঈদগাঁও থানায় অভিযোগ করেন ডা. শামশুল হুদা। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় বাধা দেওয়া ব্যক্তিদের সরিয়ে দিয়ে জমিতে ধান রোপণ করেন তিনি। এ ঘটনার জের ধরে তাকে হুমকি দেওয়া হয় বলে জানান ঈদগাঁওয়ের এই শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ।
এমন পরিস্থিতিতে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন ডা. শামশুল হুদা। তার আশঙ্কা- অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাকে হামলা বা অন্য কোনোভাবে ক্ষতি করতে পারেন।
এ বিষয়ে প্রধান অভিযুক্ত শামসুল আলমের কাছে ঘটনা প্রসঙ্গে জানতে চেয়ে যোগাযোগের চেষ্টার পরও তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঈদগাঁও থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম সিফাতুল মজুমদার জানান, অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এখন আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে তদন্ত করে দেখা হবে। ইতিমধ্যে আমরা আদালতে আবেদন করেছি ,অনুমতির অপেক্ষায় আছি। অনুমতি পেলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইফতিয়াজ নুর নিশান/আরএআর
