বিজ্ঞাপন

ঠাকুরগাঁওয়ে ইকো ইউনিভার্সিটির অনুমোদন

ঠাকুরগাঁওয়ে ইকো ইউনিভার্সিটির অনুমোদন

উত্তরাঞ্চলের উচ্চশিক্ষার মানচিত্রে যুক্ত হতে যাচ্ছে নতুন একটি বিশ্ববিদ্যালয়। ঠাকুরগাঁওয়ে প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইকো ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (ইইউএসটি)। ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিতব্য বিশ্ববিদ্যালয়টি সরকারি অনুমোদন পেয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইএসডিও এ তথ্য জানায়।

বিশ্ববিদ্যালয়টির অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাবিদ, ঠাকুরগাঁওবাসী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে সংগঠনটি।

এই অনুমোদনের মধ্য দিয়ে ঠাকুরগাঁওসহ বৃহত্তর উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং দক্ষতা উন্নয়নের নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছে ইএসডিও।

ইএসডিওর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইইউএসটি হবে শুধু সনদ দেওয়ার প্রতিষ্ঠান নয়, শিক্ষা থেকে দক্ষতা, দক্ষতা থেকে উদ্ভাবন এবং উদ্ভাবন থেকে কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করাই হবে বিশ্ববিদ্যালয়টির অন্যতম লক্ষ্য। বিশেষ করে ভৌগোলিক দূরত্ব ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকে পিছিয়ে না পড়েন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল, কৃষি, পরিবেশ ও জলবায়ু প্রযুক্তির মতো ভবিষ্যৎ কর্মবাজারের চাহিদাসম্পন্ন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির মতো দ্রুত বিকাশমান ক্ষেত্রেও শিক্ষার্থীদের যুগোপযোগী দক্ষতা দেওয়ার উদ্যোগ থাকবে।

ইইউএসটিকে গবেষণা ও উদ্ভাবননির্ভর বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে ইএসডিওর। এ জন্য আধুনিক গবেষণাগার ও উদ্ভাবন কেন্দ্র স্থাপনের পাশাপাশি বাস্তব সমস্যা সমাধানে গবেষণাকে উৎসাহিত করা হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সরাসরি সংযোগ তৈরির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিক্ষানবিশ, কর্মক্ষেত্রভিত্তিক প্রশিক্ষণ, কর্মজীবন পরামর্শ এবং চাকরির সুযোগ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও নতুন ব্যবসা-উদ্ভাবন কেন্দ্রের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শুধু চাকরিপ্রার্থী নয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হিসেবে গড়ে তুলতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। মেধাবী, নারী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের কথাও জানিয়েছে ইএসডিও।

এ বিষয়ে ইএসডিওর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ড. মো. শহীদ উজ জামান বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের মাটিতে একটি উচ্চমানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন আমরা দীর্ঘদিন ধরে লালন করেছি। আজ সেই স্বপ্ন রাষ্ট্রীয় অনুমোদন পাওয়ায় আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রতি গভীরতম কৃতজ্ঞতা জানাই।

তিনি আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা, যেখানে একজন শিক্ষার্থী শুধু একটি সনদ নিয়ে বের হবে না; সে বের হবে জ্ঞান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, মানবিক মূল্যবোধ, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং কর্মজীবনে সফল হওয়ার সক্ষমতা নিয়ে।

ইএসডিওর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ইইউএসটি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ঠাকুরগাঁওসহ বৃহত্তর উত্তরাঞ্চলে জ্ঞান ও উদ্ভাবনভিত্তিক একটি পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে বিশ্ববিদ্যালয়টি ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষণায় উত্তরাঞ্চলের স্থানীয় ও বাস্তব সমস্যাগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এর মধ্যে কৃষি ও খাদ্যপ্রযুক্তি, জলবায়ু সহনশীলতা, পরিবেশ, ডিজিটাল রূপান্তর, প্রকৌশল, স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি ও সামাজিক উদ্ভাবনের বিষয়গুলো রয়েছে। ইইউএসটি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ঠাকুরগাঁও থেকে উত্তরাঞ্চলের তরুণদের জন্য বিশ্বমানের জ্ঞান, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের সুযোগ তৈরি হবে।

রেদওয়ান মিলন/এসএইচএ