বিজ্ঞাপন

ধর্ষণের ঘটনা ৩০ হাজার টাকায় মীমাংসার চেষ্টা, পরে গ্রেপ্তার

ধর্ষণের ঘটনা ৩০ হাজার টাকায় মীমাংসার চেষ্টা, পরে গ্রেপ্তার

ফেনীর ছাগলনাইয়ায় আর্থিক সহায়তার কথা বলে এক প্রতিবন্ধী নারীকে নির্জন স্থানে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। একইসঙ্গে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় মাতব্বরেরা সালিশ বসিয়ে অভিযুক্তদের জরিমানা করেছেন বলে অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীর পরিবার। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ভোরে এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তাররা হলেন-ছাগলনাইয়া উপজেলার উত্তর ছয়ঘরিয়া গ্রামের মনির আহমদের ছেলে সাকিব (১৮), ইব্রাহিমের ছেলে ইয়াছিন (১৬) ও আনোয়ার হোসেনের ছেলে আরমান (১৫)।

পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে ছাগলনাইয়ার শুভপুর ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া এলাকায় আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা বলে একই এলাকার টমটমচালক সাকিব, আরমান ও ইয়াছিন ওই নারীকে বাড়ি থেকে নিয়ে যান। পরে তাকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে তিনজন মিলে ধর্ষণ করেন৷ একপর্যায়ে ওই নারীকে সেখানে ফেলে রেখে তারা পালিয়ে যান।

এ ঘটনাটি জানাজানি হলে সোমবার রাতে স্থানীয় কয়েকজন মাতব্বর সালিশে বসেন। সেখানে অভিযুক্ত তিনজনের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে মোট ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, গুরুতর এ অপরাধের বিষয়টি পুলিশকে না জানিয়ে সালিশের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়।

পরে বিষয়টি ছাগলনাইয়া থানা পুলিশের নজরে এলে আজ ভোরে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী বাদী হয়ে ছাগলনাইয়া থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোকছেদ আলম বলেন, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর ভুক্তভোগীর স্বামী আমার কাছে এসে স্থানীয়ভাবে বসে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দেন। তবে ওই প্রস্তাবে আমি সম্মতি দেইনি। গণধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধ সালিশের মাধ্যমে মীমাংসা করা যায় না। এজন্য আমি ওই সালিশে যাইনি।

এ ব্যাপারে ছাগলনাইয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবু তাহের বলেন, ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তারদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া ভুক্তভোগী নারীকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে শারীরিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। পাশাপাশি ঘটনাটি সালিশের মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তারেক চৌধুরী/এএমকে