ভোলা সদর উপজেলায় স্বামী মো. ফরহাদ হোসেন টিটবকে কুপিয়ে হত্যার পর মরদেহের বিভিন্ন অংশ কেটে পাতিলে রাখার মামলায় তার দ্বিতীয় স্ত্রী নুরনাহার বেগমকে (৪৫) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে ভোলার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ এর বিচারক মো. এনায়েত উল্লাহ এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাদীপক্ষ।
এর আগে, ২০২১ সালের ২৩ অক্টোবর দিনগত রাতে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরে বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন নিহতের প্রথম স্ত্রী মাহামুদা বেগম।
আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভোলা সদর উপজেলার উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নের জয়গুপি গ্রামের ঝড়ু মুন্সি বাড়ির ফরহাদ হোসেন টিটব দুই বিয়ে করেন। প্রথম স্ত্রী মাহামুদা বেগমের সঙ্গে তিনি নিজ বাড়িতে বসবাস করতেন। আর দ্বিতীয় স্ত্রী নুরনাহার বেগম আলীনগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রুহিতা গ্রামের পণ্ডিতেরপোল এলাকায় থাকতেন।
অভিযোগ রয়েছে, ফরহাদ দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত ও তার খোঁজখবর না নেওয়ায় তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় দ্বিতীয় স্ত্রী নুরনাহার ফোন করে স্বামী ফরহাদকে তার বাড়িতে ডেকে নেন। ওই রাতে তাদের মধ্যে ঝগড়া হলে ধারালো দা দিয়ে ফরহাদকে কুপিয়ে হত্যা করেন নুরনাহার। পরবর্তীতে হত্যার পর তার মরদেহের বিভিন্ন অংশ কেটে পাতিলে ভরে রাখেন।
পরদিন ২৪ অক্টোবর সকালে স্থানীয়রা নুরনাহারকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাতে ধারালো দা নিয়ে ঘরের দরজার সামনে স্বামীর মরদেহের পাশে বসে থাকতে দেখেন। পরে তারা পুলিশকে খবর দিলে ভোলা সদর মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নুরনাহারকে গ্রেপ্তার করে।
রায় পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান বাচ্চু বলেন, আদালতের রায়ে আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি।
ভোলা কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক শেখ মো. নাসীর উদ্দীন বলেন, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ থেকে আসামিকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আসামির উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করা হয়েছে। তাকে কারাগারে পাঠানোর কার্যক্রম চলছে।
মো.খাইরুল ইসলাম/এমএমবি
