বিজ্ঞাপন

বক্তৃতা দিয়ে বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান হবে না : মান্না

বক্তৃতা দিয়ে বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান হবে না : মান্না

‘কলকারখানা বন্ধ থাকলে বক্তৃতা দিয়ে কী হবে? দেশে উৎপাদন না হলে, মানুষের চাকরি না হলে বড় বড় কর্মসূচির কথা বলে কী লাভ?’ বিদ্যুৎ-সংকট ও দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এমন প্রশ্ন তুলে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, এখন প্রয়োজন বাস্তবসম্মত উদ্যোগ। বাড়ি ও ভবনের ছাদে সৌরপ্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে সংকট অনেকটাই কমানো সম্ভব।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার মিলনায়তনে নাগরিক ঐক্যের ময়মনসিংহ জেলা শাখা আয়োজিত সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ময়মনসিংহ জেলা শাখার আহ্বায়ক নজরুল ইসলামের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতি তুলে ধরে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বিদ্যুৎ-সংকটের কারণে কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। গ্রামের কৃষকরাও সমস্যায় পড়ছেন। বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক না থাকলে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান কোনোটিই বাড়ানো সম্ভব নয়। তাই শুধু বক্তৃতা নয়, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

বিদ্যুৎ-সংকট মোকাবিলায় বিকল্প ব্যবস্থার প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক বাড়ি ও ভবনের ছাদ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে লাগানো যেতে পারে। যেসব পরিবারের সৌরপ্যানেল কেনার সামর্থ্য নেই, তাদের ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণ দেওয়া যেতে পারে।

মান্না বলেন, একটি পরিবার ঋণ নিয়ে বাড়ির ছাদে সৌরপ্যানেল বসাবে। উৎপাদিত বিদ্যুতের একটি অংশ তারা নিজেরা ব্যবহার করবে, আর বাড়তি বিদ্যুৎ সরকার কিনে নেবে। সেই অর্থ থেকে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা যাবে। এতে পরিবারের বিদ্যুতের চাহিদা মিটবে, পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডেও বিদ্যুৎ যোগ হবে।

তিনি বলেন, গ্রামীণ ব্যাংক যদি টাকা নেই এমন মানুষকে ঋণ দিয়ে সেই টাকা ফেরত নিতে পারে, তাহলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্যও মানুষকে ঋণ দেওয়া সম্ভব।

এমন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি বড় ধরনের কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে বলে মন্তব্য করেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি। তার মতে, সৌরপ্যানেল স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট কাজে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা যাবে না উল্লেখ করে মান্না বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময় লাগার কথা বলা হলেও দুই বছর বিদ্যুৎ-সংকটের মধ্যে থাকা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। একইভাবে দুই বছর কলকারখানা বন্ধ রেখে দেশের অর্থনীতি সচল রাখা যাবে না। বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান দুই বছর নয়, তার চেয়েও কম সময়ে করা সম্ভব।

সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের নিজস্ব গ্যাসের অনুসন্ধান ও অন্যান্য জ্বালানি উৎস ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নীতির সমালোচনা করে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, দেশে গ্যাসের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও নতুন গ্যাস অনুসন্ধানে যথেষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমদানিনির্ভরতার কারণে সংকট তৈরি হয়েছে। তবে শুধু আগের সরকারকে দায়ী করে বসে থাকলে সমস্যার সমাধান হবে না। এখন মূল প্রশ্ন হলো, কীভাবে দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো যায় এবং মানুষের দুর্ভোগ কমানো যায়।

জুলাইয়ের আন্দোলনে প্রাণহানির প্রসঙ্গ টেনে মান্না বলেন, মানুষের বড় ধরনের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে। সেই পরিবর্তন শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য বা সভা-সমাবেশে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না। মানুষের অভাব-অভিযোগ ও দুর্ভোগ কমাতে হবে। দ্রব্যমূল্যের চাপ, দুর্নীতি ও বিদ্যুৎ-সংকটের মতো বিষয়গুলোর বাস্তব সমাধান করতে হবে। মানুষ যে পরিবর্তনের জন্য জীবন দিয়েছে, সেই পরিবর্তনের সুফল তাদের জীবনে পৌঁছাতে হবে।

বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি। তিনি বলেন, সরকারের কয়েক মাসের কার্যক্রমে মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিবর্তন কতটা এসেছে, সেটি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। দুর্নীতি কমানো ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

মান্না বলেন, তাদের রাজনৈতিক স্লোগান ‘বদলে দাও বাংলাদেশ’। তবে এটি শুধু ভোটের জন্য দেওয়া কোনো স্লোগান নয়। বাস্তব কর্মসূচির মাধ্যমে দেশ পরিবর্তনের চিন্তা থেকেই তারা কাজ করছেন।

তিনি আরও বলেন, নাগরিক ঐক্য শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য রাজনীতি করে না। মানুষের কাছে বাস্তবসম্মত সমাধান তুলে ধরে তাদের সঙ্গে নিয়ে দেশ পরিবর্তনের চেষ্টা করাই তাদের লক্ষ্য।

স্মরণসভায় নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন। সভাপতিত্ব করেন নাগরিক ঐক্য ময়মনসিংহ জেলা শাখার আহ্বায়ক আনিসুর রহমান। সঞ্চালনা করেন জেলা শাখার সদস্যসচিব হাতেম রানা।

সাখাওয়াত সুমন/এসএইচএ