বিজ্ঞাপন

জাপান প্রবাসী বরের পরিবারের দাবি

টাকা দিয়েও খাসি না পেয়ে ভেঙেছিল বিয়ে, পাশের গ্রামে ৬ লাখ কাবিনে পরিণয়

টাকা দিয়েও খাসি না পেয়ে ভেঙেছিল বিয়ে, পাশের গ্রামে ৬ লাখ কাবিনে পরিণয়

নানা বিতর্ক ও প্রথম বিয়ের জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন আলোচিত জাপান প্রবাসী জুনায়েদ মিয়া। গতকাল রাতে পাশের গ্রামের জাহের খন্দকারের কন্যা জান্নাতের (২১) সঙ্গে তার শুভ পরিণয় সম্পন্ন হয়।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের রুটি গ্রামের জাহের মিয়ার মেয়ে জান্নাত আক্তারের সঙ্গে ছয় লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেন জুনায়েদ। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা হয়েছে কনের মামার বাড়ি কসবা উপজেলার নেয়ামত গ্রামে। বর জুনায়েদ কসবা উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে।

এর আগে সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতালা গ্রামে বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে খদরে খাসি না থাকায় বিয়ে না করেই ফিরে আসেন তিনি। তবে কনের পরিবার দাবি করেছে, খাসি না থাকায় তর্ক ও আপত্তিকর কথা বলায় কনের বাবা বিয়ে দিতে অসম্মতি জানান। ওই ঘটনার পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

এ বিষয়ে বরের আপন ছোট ভাই পারভেজ রানা বলেন, আমরা তো ওইদিন আসার পর থেকেই ওই গ্রাম থেকেও অনেক বিয়ের প্রস্তাব পেয়েছি। তারা তো আমাদের চেনে, জানে, দেখছে। আমাদের সমস্যা থাকলে তো ওই গ্রাম থেকে আর কোনো বিয়ে আসতোই না। ওই গ্রাম থেকে তো অফারও দিছে যে আপনারা জামাই নিয়ে থাকেন। ওইখানকার কিছু লোক বলছিল যে, আমরা মেয়ে দেখায়ে বিয়ে করাব। আমরা বলছি, না, এ গ্রামে যেহেতু আমাদের মানহানি হইছে, আমরা এখানে কোনো বিয়ে করব না। 

তিনি আরও বলেন, পরে পাশের গ্রাম থেকে একজন আমাদের সাথেই গিয়েছিল, উনার এক ভাগ্নি আছে। উনি সব বিষয় জানেন, শোনেন। উনি আগে উনার ভাগ্নির জন্য প্রস্তাব দিয়েছিল। আমরা জানাই, আপনার যেহেতু ভাগ্নি আছে, যদি বিয়ে দেন, তবে যোগাযোগ করেন। পরে বলছে, হ্যাঁ ঠিক আছে, সমস্যা নাই। এভাবেই বিয়েটা হইছে।

তিনি জানান, গতকাল রাতে জাহের খন্দকারের কন্যা জান্নাতের (২১) সঙ্গে আমার বড় ভাই জুনায়েদ মিয়ার ৬ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে হয়েছে। তবে কোনো ধরনের স্বর্ণ আদান প্রদানের বিষয়ে কথা হয়নি।

গত বিয়ের খাসি কাণ্ড নিয়ে পারভেজ বলেন, আমার ভাই খাসি কেনার জন্য টাকা দিয়েছিল। সে যেহেতু জাপানে স্টুডেন্ট ভিসায় থাকে। তো উনার বউ নিতে হলে ওইখানে বিয়ের একটা ভিডিও ডকুমেন্ট মতো জমা দিতে হবে। তাই আমার ভাই ওই মেয়েকে বলছিল, আমি প্রয়োজনে টাকা দিতেছি, তোমরা খাসি কিনে নাও। টাকাও পাঠাইছে, কিন্তু তারা খাসি কিনে নাই। এরপর আমরা আগে শুনছি মেয়ে গায়ে হলুদের দিন বাসা থেকে বের হয়ে গেছিল। তারপরও আমরা চাইছি যেহেতু বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে তাই হোক। আমরাও প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা চেষ্টা করছি, তাদের হাতে-পায়ে ধরেছি যেন বিয়েটা হয়।

কাবিন প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ওই যে তারা তো বিয়ে দিত না। তখন কনে পক্ষের অনেকে ২০ লাখ আবার ১০ লাখ টাকা করে কাবিন চেয়েছে। বিয়ে দেবে না তাই এটা-সেটা আবদার করছে। এই বিয়ের পর এখন মোটামুটি ভালো আছে। কিন্তু ওই যে সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য পারিবারিক ও সামাজিকভাবে টেনশনে আছে।

ভেঙে যাওয়া বিয়ের কনেপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা উপলক্ষে জুনায়েদ কনের বাড়িতে পৌঁছালে ফুল দিয়ে তাকে বরণ করা হয়। এ সময় ফুল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে উপস্থিত লোকজনের সামনে বিরূপ মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে ফুল ও গেটের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বরকে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

একপর্যায়ে আত্মীয়-স্বজনদের খাওয়া-দাওয়া শেষে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে বরপক্ষের জন্য খদরের খাবার পরিবেশন করা হয়। কিন্তু খদরে খাসি না থাকায় আপত্তি জানান জুনায়েদ। খাসি ছাড়া তিনি খাবেন না এবং খাসি না দিলে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতাও করবেন না বলে জানান।

এ সময় কনেপক্ষের আত্মীয়-স্বজনসহ উপস্থিত অনেকেই তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। তবে নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন তিনি। শেষ পর্যন্ত বিয়ে না করেই ফিরতে হয় তাকে।

প্রথম কনের বাবা শফিক মিয়া বলেছিলেন, ‘আমাকে আগে জানানো হলে খদরে খাসির ব্যবস্থা করতাম। এ বিষয়ে আমাকে আগে কিছুই বলা হয়নি। এরপরও আত্মীয়-স্বজনসহ সবাই ছেলেকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু তিনি কোনোভাবেই রাজি হননি। সে আপত্তিকর মন্তব্যও করে। 

অপরদিকে জুনায়েদ ফেসবুক পোস্টে দাবি করেছিলেন খাসির ঘটনায় বিয়ে না করে চলে যাননি। তিনি দাবি করেন কাবিনের টাকা নিয়ে তর্ক বির্তক হওয়ার কারণে বিয়েতে সমস্যা হয়েছিলে। যার কারণে বিয়ে না করে চলে গিয়েছেন।

জুয়েল রহমান/আরকে

বিজ্ঞাপন