বিজ্ঞাপন

সৌদিতে ট্যাংকারের চাপায় বাংলাদেশি যুবক নিহত

সৌদিতে ট্যাংকারের চাপায় বাংলাদেশি যুবক নিহত

পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে প্রায় এক বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার রুবেল মিয়া (৩০)। তবে সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় দেশটির জিজান শহরে দায়িত্ব পালনকালে ট্যাংকারের চাপায় নিহত হয়েছেন তিনি।

নিহত রুবেল মিয়া কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের মধ্যপাড়া গ্রামের মো. কাজল বেপারীর ছেলে। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও বৃদ্ধ বাবা-মাকে রেখে গেছেন।

স্থানীয় সূত্র ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করতে ধারদেনা করে প্রায় এক বছর আগে সৌদি আরবে যান রুবেল। সেখানে ফ্রি ভিসায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। মঙ্গলবার জিজান শহরে দায়িত্ব পালনকালে একটি ট্যাংকার তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

রুবেলের বন্ধু রুবেল আহমেদ রানা বলেন, ডিউটিরত অবস্থায় ট্যাংকারটি রুবেলকে চাপা দিলে তিনি রাস্তায় ছিটকে পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

রুবেলের মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছানোর পর মধ্যপাড়া গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্ত্রী, সন্তান ও বৃদ্ধ বাবা-মা এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।

নিহতের স্ত্রী রিমা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার স্বামী আর কোনোদিন ফিরে আসবেন না— এই সত্য মেনে নেওয়া আমাদের জন্য খুবই কঠিন। এখন অন্তত তার মরদেহটি দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে শেষবারের মতো দেখতে চাই। আপনজনদের উপস্থিতিতে তাকে দাফন করতে চাই।’ 

তিনি আরও বলেন, রুবেলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চান। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করারও দাবি জানান তিনি।

সাখাওয়াত হোসেন হৃদয়/এমএমবি