কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিত্যক্ত আবাসিক ভবন ঘিরে মাদক সেবন ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রায় ছয় মাস ধরে সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভবনটিতে অপরিচিত ব্যক্তিদের আনাগোনা ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড চলছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
ঘটনাটি উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশে থাকা পরিত্যক্ত আবাসিক ভবনে। দীর্ঘদিন অযত্নে পড়ে থাকায় ভবনটির দরজা-জানালা ভেঙে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্জনতার সুযোগ নিয়ে সেখানে মাদক সেবনের আড্ডা বসে। রাতের আঁধারে নারী-পুরুষের অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, প্রায় ছয় মাস ধরে সন্ধ্যার পর ভবনটির আশপাশে অপরিচিত মানুষের আনাগোনা বেড়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জাঙালিয়া বাজারের ব্যবসায়ী গোলাপ মিয়ার ছেলে খাইরুল, রঙ্গু মিয়ার ছেলে রাসেল, বাজারের ডেকোরেটর শ্রমিক নূরু ও বাকসারিয়ারচর এলাকার বাবুল মিয়ার বিরুদ্ধে এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ করেছেন। তবে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গত রোববার রাতে স্থানীয় কয়েকজন ভবনটির আশপাশে নজরদারি করেন। তাদের দাবি, অভিযুক্ত খাইরুলের দোকানে রাতভর অবস্থানের পর ভোরের দিকে এক নারী সেখান থেকে বের হয়ে পরিত্যক্ত ভবনের দিকে যান। পরে সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে আটক করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারী জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তিরাই তাকে সেখানে নিয়ে এসেছেন। ভবিষ্যতে আর সেখানে আসবেন না—এমন আশ্বাসে বাজার কমিটি ওই নারীকে ছেড়ে দেয় বলে জানান তারা।
জাঙ্গালিয়া বাজারের ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন বলেন, গত ১৭ আগস্ট বাজারের পাহারাদারদের সহায়তায় এক নারীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। তখন তিনি কয়েকজনের নাম বলেছিলেন। পরে অভিযুক্তদের নিষেধ করা হলেও তারা উল্টো হুমকি দিয়েছেন।
জাঙ্গালিয়া বাজারের ব্যবসায়ী ও বণিক সমিতির সাবেক সভাপতি আশরাফুল আলম রিপন জানান, মানুষের স্বাস্থ্যসেবার কথা চিন্তা করে তার বাবা গোলাম বারী ও সুধীর চন্দ্র বণিক হাসপাতালের জন্য জায়গা দান করেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে। বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, দ্রুত ভবনটি সংস্কার অথবা অপসারণ করে সেখানে মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নূর এ আলম খান বলেন, জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক ভবনটি পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বলা হবে।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শামিমা আক্তার খাতুন বলেন, আবাসিক ভবনটি ইতোমধ্যে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। দ্রুত নিলামের মাধ্যমে ভবনটি ভেঙে ফেলার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি নতুন একটি ভবনের জন্য চাহিদাপত্র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস বলেন, সরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের কার্যক্রম কোনোভাবেই কাম্য নয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এএমকে
