বিজ্ঞাপন

রংপুরে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত যুবকের মৃত্যু, হত্যা মামলা দায়ের

রংপুরে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত যুবকের মৃত্যু, হত্যা মামলা দায়ের

রংপুরের কাউনিয়ায় অংশীদারি জমি বিক্রির প্রস্তাবে একমত না হওয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত যুবক পলাশ মিয়া (২৭) মারা গেছেন। বুধবার (১৯ আগস্ট) রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পরে পুলিশ হাসপাতাল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মর্গে পাঠায়। এ ব্যাপারে হারাগাছ থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে।

নিহত পলাশ মিয়া উপজেলার সারাই ইউনিয়নের আরাজি বিরচরণ গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে। 

পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানান, পলাশদের অংশীদারি সম্পত্তির এক শতাংশ জমি চাচা জাফরের কাছ থেকে গোপনে কেনার পাঁয়তারা করে একই এলাকার মোজাহার আলী। বিষয়টি জানতে পেরে সোমবার (১০ আগস্ট) সন্ধ্যায় সাহেবগঞ্জ বাজারে মোজাহারকে জিজ্ঞাসা করে গোপনে জমি কেনার ব্যাপারে পলাশ। এতে ক্ষিপ্ত হয় মোজাহার। এ নিয়ে দুইজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। খবর পেয়ে চাচা জাফর সেখানে উপস্থিত হয়ে পলাশকে চড়থাপ্পর মারে। এরইমধ্যে মোজাহার বাকবিতণ্ডার বিষয়টি তার দুই ছেলে সাব্বির ও সজিবসহ আত্মীয়দের জানান। 

পরে রাতে পলাশ ও তার মা আকলিমা বেগম সাহেবগঞ্জ মাছের বাজারে জনৈক এক ব্যক্তির কাছে টাকা নিতে যায়। সেখানে মোজাহারের আত্মীয় সোনা মিয়া প্রথমে পলাশকে মারপিট করে। আত্মরক্ষায় পলাশ সেখান থেকে দৌঁড়ে তিনমাথা মোড়ে বাজারে আসে। সেখানে আগে থেকে অবস্থান করা মোজাহার ও তার ছেলে সাব্বির, সজিবসহ আরও কয়েকজন যুবক লোহার রড, এসএস পাইপসহ দেশীও অস্ত্র দিয়ে পলাশকে মারপিট করে। এ সময় ছেলেকে বাঁচাতে মা আকলিমা ও মেজো ভাই আশরাফুল এগিয়ে গেলে তাদেরকেও মারপিট করে মোজাহার ও তার লোকজন। পরে স্বজন ও স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় পলাশকে উদ্ধার করে প্রথমে হারাগাছ হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় পলাশকে সোমবার ১৭ আগস্ট রংপুর মেডিকেল কলজে হাসপাতালে ভর্তি করেন স্বজনরা। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার ভোর ৫টার দিকে মারা যান পলাশ। মৃত্যুর খবর জানার পর ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।

নিহতের স্বজনদের দাবি- মোজাহার ও দুই ছেলে এবং তার আত্মীয়রা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পলাশের মাথা, মুখ, হাত, পা, বুক, পিঠ, কোমড়ে মারপিট করে। এতে মাথা ও কিডনিতে প্রচণ্ড আঘাতের কারণে পলাশ মারা গেছে। 

পলাশের মা আকলিমা খাতুন বলেন, ছেলে শুধু জানতে চেয়েছিলো তাদের অংশীদারি জমি কেন চাচার কাছ থেকে গোপনে কেনার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। জানতে চাওয়া কী আমার ছেলের অপরাধ ছিল। আর এজন্য আমার সামনে ছেলেটাকে নির্মমভাবে মারপিট করেছে তারা। সেসময় বাজারে শত শত লোক ছিল কেউ এগিয়ে আসেনি। প্রতিবাদ করলে হয়তো আমার ছেলেটা বেঁচে যেত। আট বছর বয়সের একটি নাতনি আছে, তার কী হবে এখন। অনেকদিন আগে মা চলে গেছে, বাবাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। ছেলের হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের হারাগাছ থানার পরিদর্শক অশোক চৌহান বলেন, আরপিএমপির সহকারী কমিশনার (মাহিগঞ্জ জোন) মো. অলিউর রহমান দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ব্যাপারে নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ফরহাদুজ্জামান ফারুক/আরএআর

বিজ্ঞাপন