বিজ্ঞাপন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ-মাদরাসাছাত্র সংঘাত: ৩ পুলিশ প্রত্যাহার, তদন্ত শুরু

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ-মাদরাসাছাত্র সংঘাত: ৩ পুলিশ প্রত্যাহার, তদন্ত শুরু

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ লাইন্সে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও মাদ্রাসাছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশের লাঠিচার্জে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ৩ পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার কারণ ও সার্বিক পরিস্থিতি তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে জেলা পুলিশ।

বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জেলা পুলিশের মিডিয়া উইং থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দুঃখ প্রকাশ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ লাইন্স প্রাঙ্গণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালে গান-বাজনা বন্ধের দাবিতে স্থানীয় বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা পুলিশ লাইন্সের গেটে গিয়ে প্রতিবাদ জানান। একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে পুলিশের বাগ্‌বিতণ্ডা ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে মাদ্রাসাছাত্রসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন।

​জেলা পুলিশের মিডিয়া উইং থেকে ইস্যুকৃত ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পুলিশ লাইন্সে গত রাতে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটিকে জেলা পুলিশ সর্বাধিক গুরুত্বের সাথে নিয়েছে। ঘটনার প্রাথমিক পর্যায়ে পুলিশ লাইন্সের গেট ও কম্পাউন্ড ডিউটিতে দায়িত্বে বিচ্যুতির অভিযোগে তিন পুলিশ সদস্যকে সব ধরনের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সার্বিক পরিস্থিতি নিরপেক্ষভাবে উদ্‌ঘাটনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ)-কে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উক্ত কমিটিকে বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

​পুলিশ বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সাথে, জেলা পুলিশ সর্বদা শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানানো হয় এবং তদন্তাধীন বিষয়ে কোনো ধরনের অনুমাননির্ভর বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার জন্য সর্বসাধারণ ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

​বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মো. জুয়েল রহমান/এমএমবি

বিজ্ঞাপন