বিজ্ঞাপন

যশোরে বিনামূল্যে সার-বীজ পেয়ে কৃষকের মুখে হাসি

যশোরে বিনামূল্যে সার-বীজ পেয়ে কৃষকের মুখে হাসি

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ ও শাক-সবজির উৎপাদন বাড়াতে যশোরের ঝিকরগাছায় কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) যশোরের ঝিকরগাছায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম. সাইফুল্লাহ।

এদিন ৬৫০ কৃষককে ১ কেজি করে পেঁয়াজের বীজ, ২০ কেজি ডিএপি, ২০ কেজি পটাশ সার, ১ কেজি বালাইনাশক ও বীজতলা ঢাকার পলিথিন বিতরণের উদ্বোধন করা হয়।

ফতেপুর গ্রামের কৃষক ইমরান হোসেন, দীর্ঘ ১০ বছর ধরে চাষাবাদ করছেন। ব্রুনাইয়ে প্রবাস জীবনে কৃষিকাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করে দেশে ফিরে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ শুরু করেন তিনি। ইতোমধ্যে ৩ বিঘা জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষ করছেন। এবার সরকারি প্রণোদনার সার ও বীজ পেয়ে খুশি এই কৃষক।

বেজিয়াতলা গ্রামের ফরিদা বেগম বলেন, বিনামূল্যে সার ও বীজ পেয়েছি। আড়াই বিঘা জমিতে পাঁচ-সাত বছর ধরে সবজি চাষ করি। সবজি বিক্রির টাকায় আমার সংসার চলে। বৃষ্টিতে সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। সরকারের দেওয়া সার-বীজ দিয়ে আবার চাষ করব।

বেনেয়ালি গ্রামের রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা বংশপরম্পরায় কৃষক পরিবার। ৩ বিঘা জমিতে সবজি চাষ করি। বর্ষার সময়ে সার ও হাইব্রিড জাতের বীজ পেয়ে উপকার হলো।

একই গ্রামের কৃষক আয়েশা খাতুন বলেন, যারা সার-বীজ পেয়েছেন, তারা সবাই চাষাবাদ করলে এ অঞ্চলের সবজির চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।

লক্ষ্মীপুর গ্রামের আমিনুর রহমান দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার পর দেশে ফিরে চাষাবাদ শুরু করতে চান। তিনি বলেন, আমার নিজের ৮-৯ বিঘা জমি রয়েছে। এই সার-বীজ দিয়েই চাষাবাদ শুরু করব। উপকরণ পেয়ে আমি খুশি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নূরুল ইসলাম বলেন, প্রণোদনা হিসেবে বিনামূল্যে সার-বীজ বিতরণ সরকারের একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। প্রতি মৌসুমেই কোনো না কোনো প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। এতে প্রান্তিক কৃষকরা উপকৃত হচ্ছেন এবং এ অঞ্চলে চাষাবাদ বাড়ছে।

রেজওয়ান বাপ্পী/এমএমবি