ভারতের কলকাতায় হোটেলের আগুনে নিহত কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের বাড়িতে তার বাবা-মা ও আট বছরের মেয়ের সাথে দেখা করে শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে শহরের আড়ুয়াপাড়ায় সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের বাড়িতে তার পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা করে তাদের খোঁজ খবর নেন তিনি। এ সময় তিনি নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের পরিবারের সদস্যদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
এসময় সংসদ সদস্য আমির হামজা সেখান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, দেখে আসলাম সাক্ষাৎ করে আসলাম। আমাদের সরকারি যেটুকু সাহায্য আছে আমি দেখব। ব্যক্তিগতভাবে মেয়েটির স্কুলের প্রিন্সিপালের সাথে কথা বলে মেয়েটির লেখাপড়ার দায়িত্ব যতটুকু পারা যায় আমরা সর্বোচ্চটা দেখছি। উনাদের পারিবারিকভাবে আমি মাঝে মাঝে খোঁজখবর নেব আমার পিএ কে দিয়ে, আমার যারা পার্সোনাল আছে তাদেরকে দিয়ে। আমরা তো দলমত জাতি-ধর্ম-বর্ণ দেখি না। আল্লাহ আমাদের বের করেছেন মানুষের কল্যাণের জন্য। সুতরাং উনাদের কল্যাণে যতটুকু লাগানো যায় চেষ্টা করব।
তিনি আরও বলেন, মেয়েটার দায়িত্ব ইনশাল্লাহ দেখছি। দোয়া করেন, উনার জন্য যেন কিছু করতে পারি। মেয়েটার দিকে তাকিয়ে খুব খারাপ লাগছে। মানুষের মরণ আজ হোক কাল হোক বিদায় তো নিতেই হবে। মেয়েটা তো অসহায় হয়ে গেল একেবারে। আমি মেয়েটির স্কুলের প্রিন্সিপালের সাথে কথা বলে যতদূর এখানে পড়া আছে, পড়ার ব্যবস্থা করব। মেয়েটির পাশে থাকার চেষ্টা করব ইনশাল্লাহ।
প্রসঙ্গত, বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোররাতে ভারতের কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ও আগুনে পুড়ে নিহত হন নয়জন। এরমধ্যে কুষ্টিয়ার এই পরিবারের চারজন মারা যান।
কুষ্টিয়া একই পরিবারের চারজন হলেন- কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, আজকের পত্রিকা ও চ্যানেল নাইন এর কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি দেবাশীস দত্ত (৩৭), তার স্ত্রী আফসানা শিম্মিন (২৫), দুই বছর বয়সী শিশুপুত্র শর্ণশিষ দত্ত এবং দেবাশীসের শ্বশুর কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়ার বাসিন্দা আকরাম আলী (৬৪)।
রবিউল আলম ইভান/এসএইচএ
