বিজ্ঞাপন

৪ বছর ধরে লন্ডনে থেকেও নিয়মিত বেতন তুলেন প্রধান শিক্ষক

৪ বছর ধরে লন্ডনে থেকেও নিয়মিত বেতন তুলেন প্রধান শিক্ষক

চার বছর ধরে লন্ডনে অবস্থান করেও নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের একটি উচ্চবিদ্যালয় থেকে নিয়মিত বেতন তুলেছেন প্রধান শিক্ষক তাসবির আহমেদ। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর বিদ্যালয়জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে উপজেলা শিক্ষা বিভাগ। পাশাপাশি প্রধান শিক্ষক ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকা তার ভাইকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় থেকে একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রধান শিক্ষক তাসবির আহমেদ এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকা তার ভাই পারভেজ আহমেদকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে জবাব চেয়ে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রধান করে গঠিত তদন্ত কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা আজ সকালেই সরেজমিনে ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষক হাজিরা খাতা, বেতন মাস্টাররোল ও পরিচালনা পর্ষদের কার্যবিবরণী বই জব্দ করেছেন।

এদিকে খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী। এলাকার একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক অনুপস্থিত থাকার সুবিধা নিয়ে বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ তহবিল ও শিক্ষার্থীদের ফি আদায়ে অনিয়ম করা হচ্ছিল। চার বছর ধরে বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও একাডেমিক পরিবেশ ভেঙে পড়েছে। তারা দ্রুত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ এবং আত্মসাৎ করা সরকারি অর্থ সরকারি কোষাাগারে ফেরতের দাবি জানান।

সোনারগাঁ উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাঈদুর রহমান বলেন, সংবাদমাধ্যমে রিপোর্ট প্রকাশের পর আমরা জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছি। ব্যাংকে চিঠি দিয়ে তার বেতন হিসাব আপাতত স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কতদিন ধরে তিনি বিনা অনুমতিতে প্রবাসে আছেন এবং কার স্বাক্ষরে বেতন ছাড় হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাত জানান, শিক্ষা খাতে কোনো ধরনের প্রশাসনিক অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর বেতন স্থগিতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে পাওয়ামাত্রই শিক্ষা বোর্ড ও মহাপরিচালক (ডিএসএইচই) বরারব স্থায়ী বরখাস্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ পাঠানো হবে।

মো. মীমরাজ হোসেন/এসএইচএ