বিজ্ঞাপন

আড়িয়াল খাঁর ভাঙনে একদিনে ১০ বাড়ি বিলীন

আড়িয়াল খাঁর ভাঙনে একদিনে ১০ বাড়ি বিলীন

বরিশালের বাবুগঞ্জে আড়িয়াল খাঁ নদে হঠাৎ ভাঙন শুরু হয়ে একদিনেই ১০টি বসতঘর নদীতে বিলীন হয়েছে। একই সঙ্গে ভাঙনের কবলে পড়েছে সড়ক, ফসলি জমি ও গাছপালা। এতে নদীতীরের কয়েকটি পরিবার মুহূর্তের মধ্যে বসতভিটা হারিয়ে বিপাকে পড়েছে।

ভাঙনের খবর পেয়ে বুধবার (১৯ আগস্ট) দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেই ঘটনাস্থলে যান বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা উল হুসনা। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে জরুরি খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন।

এর আগে উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের লোহালিয়া গ্রামে মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে এ ভাঙন ভয়াবহ রূপ নেয়। 

স্থানীয়রা জানায়, বিকেলে নদীতীরের প্রায় ১০০ ফুট এলাকায় ফাটল দেখা দেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই প্রায় ৫০ ফুট সড়কসহ একের পর এক বসতঘর নদীগর্ভে চলে যায়। পরিস্থিতি এত দ্রুত অবনতি হয় যে অনেকেই ঘরের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাননি।

ভুক্তভোগীরা জানান, কয়েক দিন ধরে চলা বৃষ্টির মধ্যে নদীর পানি বাড়তে থাকায় তীরের মাটিতে ধসের সৃষ্টি হয়। পরে আকস্মিক ভাঙনে চোখের সামনে বসতঘর, গাছপালা ও ফসলি জমি হারাতে হয় তাদের। বর্তমানে অনেকে খোলা আকাশের নিচে কিংবা স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জামাল হোসেন পুতুল বলেন, আড়িয়াল খাঁ নদীর হঠাৎ ভাঙনে মোহাম্মদ কলম সরদার, আজহার মোল্লা, মতলব হাওলাদার, হাকিম হাওলাদার, মোহাম্মদ হাসিব, সুফিয়া বেগম, কালাম সরদার ও সামসু হাওলাদারসহ বেশ কয়েকটি পরিবারের ঘরবাড়ি ও জমি নদীতে চলে গেছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইউএনও আসমা উল হুসনা বলেন, আড়িয়াল খাঁ নদে আকস্মিক ভাঙনের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তাৎক্ষণিক প্রয়োজন বিবেচনায় খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

এদিকে ভাঙন অব্যাহত থাকলে লোহালিয়া গ্রামের আরও বসতভিটা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তারা দ্রুত নদীতীর রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

আরিফ হোসেন/এসএইচএ