সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোল এলাকায় লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ার সাত-আট বছর পরও নবায়ন না করে রোগী ভর্তি ও সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার চালানোর অভিযোগে একটি ক্লিনিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সাতক্ষীরা সার্জিক্যাল ক্লিনিক নামে প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান চালিয়ে এসব অনিয়ম পায় র্যাব। পরে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত ক্লিনিকটির প্রতিনিধি মো. আক্কাস হোসেনকে এ জরিমানা করেন। একই সঙ্গে নতুন করে রোগী ভর্তি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযান সংশ্লিষ্টরা জানান, ক্লিনিকটির লাইসেন্সের মেয়াদ সাত-আট বছর আগে শেষ হলেও এরপর আর তা নবায়ন করা হয়নি। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির বাইরে কোনো সাইনবোর্ড ছিল না। অভিযানের সময় সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্সও পাওয়া যায়নি।
অভিযানের সময় ক্লিনিকটিতে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা তিনজন রোগী ভর্তি ছিলেন। এ কারণে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়নি।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম বলেন, র্যাবের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ক্লিনিকটিতে অভিযান চালানো হয়। প্রতিষ্ঠানটির একটি লাইসেন্স থাকলেও সেটির মেয়াদ সাত-আট বছর আগে শেষ হয়েছে। এরপর আর লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি।
তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী একটি ক্লিনিকে প্রতি শিফটে একজন ডিউটি চিকিৎসক ও দুজন ডিপ্লোমা নার্স থাকার কথা। কিন্তু অভিযানের সময় সেখানে কোনো ডিউটি চিকিৎসক বা নার্স পাওয়া যায়নি। রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়ার মতো জনবলও ছিল না। এসব কারণে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ক্লিনিকটির প্রতিনিধিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
র্যাব-৬-এর কোম্পানি কমান্ডার জায়েন উদ্দিন মোহাম্মদ জিয়াদ বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ক্লিনিকটিতে অভিযান চালানো হয়। বাইরে থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে বাসাবাড়ির মতো মনে হচ্ছিল। কোনো সাইনবোর্ডও ছিল না। অথচ ভেতরে রোগী ভর্তি করে অস্ত্রোপচার চলছিল।
তিনি আরও বলেন, ক্লিনিকটির লাইসেন্স, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় জনবলের ঘাটতির বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের প্রতিনিধিদের জানানো হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনগত ব্যবস্থা নেয়।
ইব্রাহিম খলিল/আরকে
