একসময় অর্থনীতির শিক্ষক হিসেবে যে মানুষটি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ার পাঠ দিতেন, সময়ের স্রোতে তিনিই হয়ে উঠেছেন দেশের রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ। পৌরসভার চেয়ারম্যানের চেয়ারে বসেছেন, সংসদে গেছেন, মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেছেন, দীর্ঘদিন বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব সামলেছেন, পেরিয়েছেন আন্দোলন, মামলা ও কারাবাসের কঠিন সময়ও।
ঠাকুরগাঁওয়ের স্থানীয় রাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্র, আর সেখান থেকে এবার বঙ্গভবনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ২৫৫ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তার জীবনে যুক্ত হলো নতুন এক অধ্যায়।
ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্র হয়ে বঙ্গভবন- মির্জা ফখরুলের এই পথচলা এক দিনে তৈরি হয়নি। ছাত্রজীবনের বামপন্থি রাজনীতি, সরকারি চাকরি, স্থানীয় সরকার, সংসদীয় রাজনীতি, মন্ত্রিত্ব, বিরোধী দলের আন্দোলন, কারাবাস এবং দলীয় নেতৃত্ব বহু বাঁক পেরিয়ে ৭৮ বছর বয়সে দেশের রাষ্ট্রপতি পদে পৌঁছালেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট-সমর্থিত প্রার্থী ও এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে মির্জা ফখরুল বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন।
১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের। তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন, স্থানীয়ভাবে ‘চখা মিয়া’ নামে পরিচিত, ছিলেন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। পাকিস্তান আমলে মুসলিম লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকার পর বাংলাদেশের রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। রাজনীতির সঙ্গে মির্জা ফখরুলের পারিবারিক সম্পর্ক আরও পুরোনো। তার চাচা মির্জা গোলাম হাফিজ ছিলেন জাতীয় পর্যায়ের পরিচিত রাজনীতিক এবং বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার। ফলে রাজনীতি তার কাছে অপরিচিত কোনো জগত ছিল না, বরং পারিবারিক পরিবেশেই রাজনীতির নানা অনুষঙ্গের সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে। তবে পরবর্তী সময়ে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় তিনি গড়ে তোলেন দীর্ঘ সংগ্রাম, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং ধারাবাহিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে।
ঠাকুরগাঁওয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকায় আসেন মির্জা ফখরুল। ঢাকা কলেজে উচ্চমাধ্যমিক শেষে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে। সেখান থেকেই তার রাজনৈতিক জীবনের সক্রিয় অধ্যায়ের সূচনা। ষাটের দশকে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হল ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ১৯৬৯ সালের আইয়ুব-বিরোধী গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতির দায়িত্বও পান। ছাত্ররাজনীতির সেই সময় ছিল পাকিস্তানি শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলনের উত্তাল অধ্যায়। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে মির্জা ফখরুলকে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারেও যেতে হয়েছিল।

ব্যক্তিগত জীবনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্ত্রী রাহাত আরা বেগম। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং একটি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি অবসরপ্রাপ্ত। তাদের দুই মেয়ে মির্জা শামারুহ ও মির্জা সাফারুহ। বড় মেয়ে মির্জা শামারুহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং সেখানে শিক্ষকতাও করেছেন। বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় পোস্টডক্টরাল গবেষণায় যুক্ত। ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী এবং ঢাকার একটি ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে শিক্ষকতা করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করে মির্জা ফখরুল সরাসরি দলীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেননি। তার পেশাগত জীবনের শুরু শিক্ষকতা দিয়ে। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দেন তিনি। ঢাকা কলেজে অর্থনীতির প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি কলেজে অর্থনীতি পড়িয়েছেন। শিক্ষকতা জীবনের একটি পর্যায়ে ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজেও অর্থনীতি পড়ান তিনি। শ্রেণিকক্ষের শিক্ষকতার পাশাপাশি সরকারি প্রশাসনের সঙ্গেও তার পরিচয় তৈরি হয়। জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী এস এ বারির সচিব হিসেবেও কাজ করেন তিনি। পরে আবার শিক্ষকতা পেশায় ফিরে যান। সরকারি পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর এবং ইউনেসকোর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার কথা বিভিন্ন জীবনীমূলক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে আসার সিদ্ধান্ত নেন মির্জা ফখরুল। এরপর ১৯৮৮ সালের পৌর নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘সাইকেল’ প্রতীকে নির্বাচন করে জয়ী হন। স্থানীয় সরকারের এই দায়িত্ব তার রাজনৈতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ বাঁক তৈরি করে। জাতীয় রাজনীতির বড় পরিসরে যাওয়ার আগে তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের স্থানীয় রাজনীতিতে নিজের একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করেন। এরপর নব্বইয়ের দশকের শুরুতে এরশাদ-বিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন তিনি। ১৯৯২ সালে তাকে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি করা হয়। জেলার রাজনীতি থেকে ধীরে ধীরে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রীয় পরিসরে তার উত্থান শুরু হয়।

১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন তিনি। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনেও একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয় পাননি। তবে রাজনীতির মাঠে তার অবস্থান ক্রমেই শক্তিশালী হতে থাকে। অবশেষে ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন মির্জা ফখরুল। এ জয়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের স্থানীয় ও জাতীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পর প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদে প্রবেশ করেন তিনি। ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার গঠন করলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরে ২০০৫ সালের নভেম্বর থেকে তাকে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়।
২০০৬ সালে বিএনপি সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনেও তিনি অংশ নেন। এরপর তার রাজনৈতিক ভূমিকার কেন্দ্রবিন্দু ধীরে ধীরে নির্বাচনী রাজনীতি থেকে সরে বিএনপির সাংগঠনিক নেতৃত্বের দিকে চলে আসে।
২০০৯ সালে বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন। ২০১১ সালে দলের তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেন মারা গেলে মির্জা ফখরুলকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রায় পাঁচ বছর তিনি এই দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০১৬ সালের মার্চে বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের পর আনুষ্ঠানিকভাবে দলের মহাসচিবের দায়িত্ব পান তিনি। দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির জন্য এই সময়টি ছিল রাজনৈতিকভাবে কঠিন।
আন্দোলন, নির্বাচন, মামলা, গ্রেপ্তার, দলীয় সংকট এবং সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ সবকিছুর মধ্যেই দলের অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে সামনে ছিলেন মির্জা ফখরুল। বিএনপির মহাসচিব হিসেবে নির্বাচনী ব্যবস্থা, সরকারের পদত্যাগ, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ বিভিন্ন দাবিতে দলটির কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি।
২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচন বিএনপি বর্জন করে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের পাশাপাশি বগুড়া-৬ আসন থেকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মির্জা ফখরুল। বগুড়া-৬ আসনে জয়ী হলেও ঠাকুরগাঁও-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।
মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম কঠিন অধ্যায় আসে ২০২৩ সালের শেষ দিকে। ওই বছরের অক্টোবরের শেষ দিকে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘাত-সহিংসতার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০২৪ সালের জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের সময়ও তিনি কারাগারে ছিলেন। এমনকি তার ৭৬তম জন্মদিনও কারাগারে কাটে।
২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে আবারও নিজের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ঘাঁটি ঠাকুরগাঁও-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মির্জা ফখরুল। এবার তিনি বড় ব্যবধানে জয়ী হন। জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের হিসাবে তিনি ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৩৬ ভোট পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী পান ১ লাখ ৪১ হাজার ১৭ ভোট। নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। একই সঙ্গে তিনি বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্বও পালন করতে থাকেন।
১৩ আগস্ট বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। মনোনয়ন ঘোষণার পরই তিনি বিএনপির মহাসচিব এবং জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেন। একই দিন বিএনপি তার মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়।
নির্বাচন কমিশন যাচাই-বাছাই শেষে মির্জা ফখরুল ও কর্নেল (অব.) অলি আহমদের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে। এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসেও আলাদা গুরুত্ব বহন করে। ৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণ হয়।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট। এর মধ্য দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনীতি থেকে উঠে আসা এই প্রবীণ রাজনীতিক দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগে ভোট দেওয়ার কিছুক্ষণ আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মির্জা ফখরুল আবেগাপ্লুত হয়ে বলেছিলেন, অনেক কিছু মিস করবো।’ একই সঙ্গে তিনি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, যেটি হবে সুখী, সমৃদ্ধ ও কল্যাণমুখী।
শ্রেণিকক্ষ থেকে রাজনীতির মাঠ, পৌরসভার চেয়ারম্যানের পদ থেকে জাতীয় সংসদ, মন্ত্রিসভা থেকে বিএনপির মহাসচিব দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এবার তার ঠিকানা বঙ্গভবন। আগামীকাল (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব নেওয়ার কথা রয়েছে তার।
আরএআর
