নারায়ণগঞ্জের বন্দরে পূর্ববিরোধের জেরে বুলবুল আহমেদ (৩৫) নামে ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি কিশোর অপরাধী দলের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে উপজেলার সালেহনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত বুলবুল আহমেদ শাহী মসজিদ এলাকার রাজা মাস্টারের ছেলে। তিনি ইসলামী যুব আন্দোলনের বন্দর থানা (পশ্চিম) শাখার যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন বলে জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সভাপতি মুফতি মাছুম বিল্লাহ।
স্থানীয় সূত্র ও ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের ভাষ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বুলবুলের মালিকানাধীন একটি গ্যারেজে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনায় তিনি মামলা করেন। ওই মামলায় স্থানীয় কিশোর অপরাধী দলের নেতা হিসেবে পরিচিত শেখ সিফাত ওরফে ‘কাটা সিফাতসহ’ কয়েকজনকে আসামি করা হয়।
মামলাটিকে কেন্দ্র করেই বুলবুলের সঙ্গে সিফাত ও তার সহযোগীদের বিরোধ তৈরি হয় বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। এর আগে বুলবুলের ওপর হামলার চেষ্টা হয়েছিল বলেও জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের নেতারা।
মুফতি মাছুম বিল্লাহর অভিযোগ, বৃহস্পতিবার মাগরিবের নামাজের পর প্রয়োজনীয় কাজে সালেহনগর এলাকায় গেলে বুলবুলের ওপর হামলা চালায় সিফাতের নেতৃত্বাধীন একটি দল। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।
রক্তাক্ত অবস্থায় বুলবুলকে প্রথমে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মাছুম বিল্লাহ বলেন, বুলবুলের করা মামলার কারণে আগে থেকেই সিফাত ও তার লোকজনের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। এর আগেও তাকে হামলার চেষ্টা করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সালেহনগরে গেলে পরিকল্পিতভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ওপর হামলা চালানো হয়।
ইসলামী আন্দোলনের নেতা মুফতি মাছুম বিল্লাহ বলেন, আগে সিফাত বাহিনী খান মাসুদের হয়ে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাত। গণঅভ্যুত্থানের পর পরিস্থিতি বদলালেও তারা আবার সক্রিয় হয়েছে। বুলবুল হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।
স্থানীয়দের ভাষ্য, অভিযুক্ত শেখ সিফাত ওরফে ‘কাটা সিফাত’ শাহী মসজিদ এলাকার শেখ শাহীনের ছেলে। তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
তবে বুলবুল হত্যার অভিযোগের বিষয়ে শেখ সিফাতের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরিবারের এক সদস্যের নম্বরেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পূর্বশত্রুতার জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে জানতে পেরেছি। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং ঘটনার সঙ্গে কিশোর অপরাধী দলের সম্পৃক্ততার বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।
মেহেদী হাসান সৈকত/এসএইচএ
