রাজবাড়ী সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে অনুমোদিত ১১টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৩ জন। দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট থাকায় একদিকে দাপ্তরিক কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্মকর্তাদের, অন্যদিকে বিপুলসংখ্যক গবাদিপশু ও পাখির চিকিৎসা, টিকাদান এবং রোগ প্রতিরোধে মাঠপর্যায়ে সেবা দিতে তৈরি হচ্ছে নানা সীমাবদ্ধতা।
রাজবাড়ী সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় গরুর খামার রয়েছে ৪ হাজার ৪৬৩টি। এর মধ্যে ৪ হাজার ৫৪টি হৃষ্টপুষ্টকরণ খামার। উপজেলায় মোট গরু রয়েছে ৭৬ হাজার ৪৩টি। এছাড়া ছাগলের খামার ১৪৭টি, লেয়ার মুরগির খামার ৩৮৯টি, ব্রয়লার ২৪২টি, সোনালী মুরগির খামার ১৬৯টি, হাঁসের খামার ২৬টি, ভেড়ার খামার ২২টি, কোয়েলের খামার ২৫টি এবং কবুতরের খামার রয়েছে ৫৩টি।
এত বিপুলসংখ্যক খামার ও প্রাণিসম্পদের বিপরীতে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা, টিকাদান, খামারিদের পরামর্শ প্রদান এবং সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে লাম্পি স্কিন ডিজিজসহ বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে সীমিত জনবল নিয়ে মাঠপর্যায়ে সেবা নিশ্চিত করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
১১ পদের দায়িত্ব ৩ জনের কাঁধে
দপ্তরটিতে অনুমোদিত ১১টি পদের মধ্যে বর্তমানে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, ড্রেসার ও অফিস সহকারী—এই তিন পদে জনবল রয়েছে। বাকি আটটি পদই শূন্য। শূন্য পদগুলোর মধ্যে রয়েছে একজন ভেটেরিনারি সার্জন, একজন উপজেলা লাইভস্টক অ্যাসিস্ট্যান্ট, তিনজন ভেটেরিনারি ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট, একজন এফএএআই, একজন অফিস সহায়ক ও একজন কম্পাউন্ডার।
ফলে দপ্তরের নিয়মিত কাজের পাশাপাশি চিকিৎসা ও মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন দায়িত্বও সীমিত জনবলকে সামলাতে হচ্ছে। এতে সেবার চাহিদা বাড়লেও সে অনুযায়ী জনবল ও সময় দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. খায়ের উদ্দীন আহমেদ বলেন, “রাজবাড়ী সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে মোট ১১টি অনুমোদিত পদ রয়েছে। এর মধ্যে আমি, একজন ড্রেসার ও একজন অফিস অ্যাসিস্ট্যান্টসহ মোট তিনজন কর্মরত আছি। বর্তমানে ১১ জনের কাজ তিনজনকে করতে হচ্ছে। পদোন্নতিজনিত কারণে ভেটেরিনারি সার্জন অন্যত্র বদলি হওয়ায় গত তিন মাস ধরে পদটি শূন্য রয়েছে। জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।”
জেলা পর্যায়েও একই চিত্র
শুধু সদর উপজেলা নয়, জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য জনবল সংকট। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. প্রকাশ রঞ্জুন বিশ্বাস বলেন, “জেলা ও উপজেলা মিলে মোট ৬৮টি পদের বিপরীতে ৩১ জন জনবল কর্মরত রয়েছে। বাকি পদগুলো শূন্য। আমাদের যে জনবল থাকার কথা, তার অর্ধেকই নেই। আমরা প্রতি মাসে মাসিক রিপোর্টের সময় শূন্য পদের তালিকা করে পাঠাই।”
দ্রুত জনবল নিয়োগের দাবি
খামারিরা বলছেন, প্রাণিসম্পদ খাতের পরিধি দিন দিন বাড়লেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। রোগের প্রাদুর্ভাবের সময় একজন চিকিৎসক বা মাঠকর্মীর ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এতে সময়মতো চিকিৎসা ও পরামর্শ না পেলে খামারিদের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কাও থাকে।
তাদের দাবি, রাজবাড়ী সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করা হোক। পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিত করা গেলে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির চিকিৎসা, টিকাদান, রোগ প্রতিরোধ এবং খামারিদের পরামর্শসেবা আরও কার্যকরভাবে দেওয়া সম্ভব হবে। পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় অর্থনীতিতেও আরও বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
মীর সামসুজ্জামান সৌরভ/আরকে
