চাঁপাইনবাবগঞ্জে চাঁদা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে ট্রাক, ট্র্যাংক লরি ও কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন এবং জেলা বাস, মিনিবাস ও কোচ পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের মীমাংসা হয়েছে। পুলিশের মধ্যস্থতায় বৈঠকের পর চাঁদা উত্তোলন ও ভাগাভাগি নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছেন দুই সংগঠনের নেতারা।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত ৯টা ৪০ মিনিট থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় দুই সংগঠনের নেতাদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. একরামুল হক।
বৈঠকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. একরামুল হকের নেতৃত্বে দুই শ্রমিক সংগঠনের নেতারা অংশ নেন। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. ইয়াসির আরাফাত, সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. একরামুল হোসাইনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের মধ্যে জেলা ট্রাক, ট্র্যাংক লরি ও কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আনারুল ইসলাম আনার, জেলা বাস, মিনিবাস ও কোচ পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সহসভাপতি নাসির উদ্দিন এবং জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হামিদুর রহমান নান্নুসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, লোকাল বাস থেকে ৩০ টাকা করে চাঁদা উত্তোলন করা হবে। এই টাকা দুই শ্রমিক সংগঠন ১৫ টাকা করে ভাগ করে নেবে। এ ছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে দূরপাল্লার বাসের চাঁদা ১০ টাকা বাড়িয়ে ৪০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বাস মালিকরা তা মেনে নিলে ৪০ টাকা চাঁদা উত্তোলন করা হবে এবং দুই সংগঠন ২০ টাকা করে ভাগ করে নেবে। তবে দূরপাল্লার বাস মালিকদের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত ৩০ টাকা চাঁদা উত্তোলন করে তা দুই সংগঠন ভাগ করে নেবে।
সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী, এখন থেকে উভয় সংগঠন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-ঢাকা বাসস্ট্যান্ড থেকে চাঁদা উত্তোলন করবে। হরিপুর থেকে কোনো সংগঠন চাঁদা উত্তোলন করবে না। বৈঠক শেষে দীর্ঘদিনের বিরোধ ও ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে দুই সংগঠনের নেতারা পরস্পরকে জড়িয়ে ধরেন।
জেলা ট্রাক, ট্র্যাংক লরি ও কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আনারুল ইসলাম আনার বলেন, সদর থানায় দুই শ্রমিক সংগঠন ও বাস মালিক সমিতির নেতারা বসেছিলাম। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-ঢাকা বাসস্ট্যান্ড থেকে চাঁদার টাকা উত্তোলন করা হবে এবং তা অর্ধেক করে ভাগ করে নেওয়া হবে। আমাদের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব ছিল, তার অবসান হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. একরামুল হক বলেন, ডিসি অফিস থেকে আমাদের জানানো হয়েছিল, দুই সংগঠনেরই বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। তবে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা উত্তোলন নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি ছিল। আমরা বসে বিষয়টি মিটিয়ে দিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, এখানে পুলিশ শুধু আম্পায়ারের ভূমিকা পালন করেছে। চাঁদা উত্তোলন ও ভাগ-বাটোয়ারার বিষয়ে তারাই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে দুই সংগঠনের ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটেছে।
মো. আশিক আলী/এমএমবি
