বিজ্ঞাপন

রাকসুর ভিপি থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব

রাকসুর ভিপি থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কুড়িগ্রামের কৃতি সন্তান অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পাওয়ায় তার জন্মভূমি কুড়িগ্রামে আনন্দ-উল্লাস, মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেছেন নেতাকর্মীরা।

রিজভী আহমেদের দীর্ঘায়ু ও সফলতা কামনা করে শুক্রবার (২১ আগস্ট) জুমার নামাজের পর জেলার বিভিন্ন মসজিদে বিশেষ দোয়া করা হয়। পরে বিকেলে জেলা বিএনপির কার্যালয় থেকে একটি আনন্দ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কলেজ মোড়ে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।

এসময় দলীয় নেতাকর্মীরা বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ভিপি থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব—দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ত্যাগ, নিষ্ঠা, দলের প্রতি আনুগত্য ও নানা আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এ পর্যায়ে পৌঁছেছেন। তার এই অর্জনে কুড়িগ্রামের মানুষ গর্বিত। 

কুড়িগ্রাম শহরের হিঙ্গণরায় সর্দারপাড়ায় জন্ম রুহুল কবির রিজভী আহমেদের। তার বাবা আব্দুল কুদ্দুস। দুই ভাই ও চার বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। শৈশবে কুড়িগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। পরে বাবার চাকরির সুবাদে বগুড়ায় গিয়ে সেখান থেকে এসএসসি পাস করেন। এরপর রাজশাহীতে ফুপুর বাসায় থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন এবং ছাত্রজীবনেই রাজনীতিতে যুক্ত হন।

রিজভী আহমেদের কুড়িগ্রামের বাসভবনের কেয়ারটেকার বুলবুল মিয়া বলেন, আমি সাড়ে ৩ বছর ধরে এখানে কাজ করছি। তিনি খুব ভালো মানুষ। মাঝেমধ্যে বাড়িতে এলে আমাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেন এবং খোঁজখবর নেন। ঢাকায় থাকলেও নিয়মিত ফোন করে আমাদের খোঁজখবর নেন।

মোস্তফা কামাল লিখন বলেন, রিজভী আহমেদ আমাদের চাচাতো ভাই। তার জন্ম ও পারিবারিক বাড়ি কুড়িগ্রামেই। শৈশবে কুড়িগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। বাবার চাকরির সুবাদে পরে বগুড়ায় গিয়ে সেখান থেকে এসএসসি পাস করেন। এরপর রাজশাহীতে ফুপুর বাসায় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা ও রাজনীতি করেন। ছোটোবেলা থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

তিনি বলেন, রিজভী ভাই কুড়িগ্রামে এলে সুযোগ পেলেই আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে গিয়ে সবার খোঁজখবর নেন। তিনি খুব ভালো মানুষ। তাকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়ায় আমরা অত্যন্ত খুশি। তিনি রাজনীতির জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন।

কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান হাসিব বলেন, অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আমাদের দলের অহংকার। কুড়িগ্রামের মানুষ হিসেবে তাকে নিয়ে গর্ব করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। দলের চেয়ারম্যান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দিয়েছেন। কুড়িগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ হিসেবে আমরা তাকে অভিনন্দন জানাই। প্রত্যন্ত এলাকা থেকে সংগ্রাম করে তিনি আজ দলের শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছেছেন এবং ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন। এতে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। রিজভী আহমেদ শৈশবে কুড়িগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। কুড়িগ্রামের মানুষের সঙ্গে তার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তিনি অত্যন্ত সদালাপী, হাস্যোজ্জ্বল ও নিরহংকার মানুষ।

রিজভীর রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গ টেনে হাসিবুর রহমান বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় এরশাদবিরোধী আন্দোলনে রিজভী আহমেদ গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ফিরে এসেছেন। এরপর ছাত্রনেতা থেকে ছাত্রদলের সভাপতি এবং বিএনপির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি দলের জন্য ভূমিকা রেখেছেন। রিজভী আহমেদের মতো যোদ্ধারা যতদিন আমাদের সামনে থাকবেন ততদিন গণতন্ত্র এ দেশে পথ হারাবে না। যখনই ফ্যাসিবাদ বিরোধী কোনো আন্দোলন হবে, গণতান্ত্রিক সংকট তৈরি হবে, স্বৈরাচার যখন বাংলাদেশের জনগণের বুকে চেপে বসবার উপক্রম হবে, তখন রিজভী আহমদের মতো যোদ্ধারা আমাদের পথ দেখাবে। রিজভী আহমেদের নেতৃত্বে কুড়িগ্রামের মানুষের দারিদ্র্য, নদীভাঙন ও চরাঞ্চলের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আমরা আশা করি। আমি তার দীর্ঘায়ু ও সফলতা কামনা করি।

জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, রিজভী আহমেদ তিন-চার বছর কুড়িগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। তার শৈশব এখানেই কেটেছে। জন্মস্থান, বাবার কবর ও দাদার স্মৃতির টানে তিনি বারবার কুড়িগ্রামে ছুটে আসেন।

তিনি বলেন, কুড়িগ্রাম একটি দুর্যোগপ্রবণ ও দারিদ্র্যপীড়িত এলাকা। বন্যা, খরা, নদীভাঙন কিংবা শীত—যেকোনো দুর্যোগে রিজভী আহমেদ মানুষের পাশে দাঁড়ান। তিনি নিজে চরাঞ্চলে গিয়ে মানুষের দুর্ভোগ দেখেন এবং সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। জাতীয় নেতা হওয়ার পরও শেকড়ের টানে তিনি কুড়িগ্রামে ফিরে আসেন। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতেও রিজভী আহমেদ কুড়িগ্রামের মানুষের পাশে থাকবেন এবং জেলার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ যেন কখনো হার মানেন না। বছর বছর এমন নেতা তৈরি হন না। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তিনি সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছেন। বুক পেতে গুলি খেয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে আবারও জনতার কাছে ফিরে এসেছেন। এমন একজন নেতা বিএনপির মতো প্রধান রাজনৈতিক দলের মহাসচিবের দায়িত্ব পাওয়ায় সারা দেশের মানুষ খুশি।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা চড়াই-ওতরাই পেরিয়েছেন রুহুল কবির রিজভী। ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে যুক্ত হন তিনি। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়েছেন। ১৯৯০-৯১ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ভিপি নির্বাচিত হন তিনি। পরে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়ে মূল দল বিএনপির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

মমিনুল ইসলাম বাবু/এমএমবি