বিজ্ঞাপন

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী গাইবান্ধার লিংকন: জেলার উন্নয়নে এবার নতুন প্রত্যাশা

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী গাইবান্ধার লিংকন: জেলার উন্নয়নে এবার নতুন প্রত্যাশা

সাংসদ শামীম কায়সার লিংকন এখন বর্তমান সরকারের ধর্ম প্রতিমন্ত্রী। সাংসদ থেকে মন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছেন জেলার সর্বস্তরের মানুষ। এতে সৃষ্টি হয়েছে আনন্দ ও আশাবাদের। বিশেষ করে গোবিন্দগঞ্জের মানুষ এই অর্জনকে নিজেদের গর্ব হিসেবেই দেখছেন। 

বলছেন, তিনি এখন কেবল গাইবান্ধা-৪ আসনের এমপি নন, তিনি এখন গোটা দেশের প্রতিমন্ত্রী। তাই নিজ আসন পেরিয়ে নিজ জেলা গাইবান্ধার অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রসহ জেলার সার্বিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা জেলাবাসীর।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে শপথ গ্রহণের পর মন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকা গাইবান্ধা-৪ গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা শহর ও তার গ্রামের বাড়ি মহিমাগঞ্জে আনন্দ মিছিল এবং মিষ্টি বিতরণ করেন দলের নেতাকর্মী, সমর্থক, ভোটার ও স্বজনরা। এ সময় দলমত নির্বিশেষে সকলে স্বতঃফুর্তভাবে রাস্তায় নেমে এসে আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠেন।

এতে নেতৃত্ব দেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব রেজানুল হাবীব  রফিক, বিএনপি নেতা আলতাফ হোসেন পাতা ও রফিকুল ইসলাম রফিক। 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটিই জামায়াতে ইসলামী দখলে নিলে কেবল গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনটি বিএনপির সরকারকে উপহার দেয় শামীম কাওসার লিংকন। সে হিসেবে দলের প্রতি লিংকনের আস্থা ও সাংগঠনিক শক্তিশালি ভূমিকার জন্য তারেক রহমানের সরকার এমপি লিংকনকেও যথাযথ মূল্যায়ণ করছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে মনে করা হচ্ছে।

গাইবান্ধা জেলার সদর আসন না হয়েও পাঁচটি আসনের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ  আসন হিসেবে ধরা হয় গাইবান্ধা-৪ গোবিন্দগঞ্জ আসনকে। ৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ হাইওয়ে, তিন জেলার প্রবেশদ্বার এই আসন আয়তনে সব থেকে বড়। ১টি পৌরসভা ১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনে ভোটের মাঠে ছিলেন স্বতন্ত্র একজনসহ দলীয় ৬ প্রার্থী। তাদেরকে পরাজিত করে চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে তিনি ১ লাখ ৪১ হাজার ৭১২ ভোট পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন। তার শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা নায়েবে আমির ডা. আব্দুর রহিম সরকার (দাঁড়িপাল্লা)।

রাজনীতিতে লিংকনের পারিবারিক ঐতিহ্যও রয়েছে। তার বাবা মরহুম আবদুল মোত্তালিব আকন্দ ছিলেন এই আসনের সাংসদ। তিনি এ আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হয়ে ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরে ২০০৪ সালে তার মৃত্যুর পর ২০০৬ সালের উপনির্বাচনে একই আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন লিংকন। পরে ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করে পরাজিত হন এবং সর্বশেষ ২০২৬ সালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে এ আসন থেকে তিনি পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। লিংকন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য।

এর আগে বিশ্বস্ত ও দায়িত্বশীল সূত্রে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার খবর নিশ্চিত হওয়ার পর শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেলে নিজের ফেসবুক পেজে এক আবেগঘন বার্তায় তিনি লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। জানা-অজানা অসংখ্য মানুষের দোয়া, অশ্রু ও চেষ্টার ফলাফল।’ তার এই পোস্ট মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং রাজনৈতিক নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাকে অভিনন্দন জানান। 

প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই গাইবান্ধা সদরের সাবেক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোর্শেদ হাবীব সোহেল তার ফেসবুক পোস্টে অভিনন্দন ও প্রত্যাশা জানিয়ে লেখেন, দীর্ঘ ৩৬ বছর পর গাইবান্ধা জেলা পেলো এমন একজন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী যিনি সর্বজ্ঞানী একজন মানুষ। অবহেলিত গাইবান্ধার জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের কান্ডারী শামীম কায়সার লিংকনের সদরে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, অর্থনৈতিক জোন, মহিমাগঞ্জে রংপুর চিনিকল সহ সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে জেলাবাসীর হৃদয়ে অম্লান হয়ে থাকবেন বলে প্রত্যাশা করেন তিনি। এ ছাড়া অনেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান ফেসবুকে। 

একইসঙ্গে উত্তরের কৃতি সন্তান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হওয়ায় উল্লাস প্রকাশ করেছেন দলটির নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা।

উল্লেখ্য, আজ সন্ধ্যার পর সরকারের মন্ত্রিসভায় আগে প্রতিমন্ত্রী থাকা একজন এবং নতুন করে পাঁচ জনসহ ছয় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী বঙ্গভবনে শপথ নেন। এদের মধ্যে চারজন মন্ত্রী আর দুজন প্রতিমন্ত্রী। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাদের শপথ পাঠ করান।  

মাসুম বিল্লাহ/এএমকে