বিজ্ঞাপন

স্ত্রী না ফেরায় অভিমানে সন্তানকে নিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ স্বামীর

স্ত্রী না ফেরায় অভিমানে সন্তানকে নিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ স্বামীর

নরসিংদীতে স্ত্রীর সাথে অভিমান করে সাড় চার বছর বয়সী শিশু সন্তানকে নিয়ে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়েছেন স্বামী। শুক্রবার সন্ধ্যায় নরসিংদী শহরের আরশিনগর এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল সড়কে এই ঘটনা ঘটে। এসময় দুইজন গুরুতর আহত হলে তাদের নরসিংদী সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

আহত আল আমিন (২৫) নরসিংদী শহরের পূর্ব ব্রাহ্মন্দী এলাকার হাসেম মিয়ার ছেলে। তিনি ইন্টেরিয়র ডিজাইনার এর কাজ করতেন।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, আল আমিন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। স্বামীর এই মাদকের অভ্যাস সহ্য করতে না পেরে কিছুদিন আগে তাকে ছেড়ে চলে যান স্ত্রী রুমি বেগম। যাওয়ার সময় তিনি সাড়ে চার বছর বয়সী শিশু সন্তান আরিয়ানকে বাবা আল আমিনের কাছে রেখে যান। এরপর থেকে আল আমিন স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার জন্য নিজের পরিবারের সাথে প্রায়ই ঝগড়া করতেন। স্ত্রী ফিরে আসার জন্য এবং পুনরায় সংসার শুরু করার জন্য স্ত্রীকে বারবার অনুরোধও করেছিলেন। কিন্তু রুমি বেগম ফিরে আসতে অস্বীকৃতি জানান।

সম্প্রতি রুমি বেগম আবারও স্বামীর সংসারে ফিরে আসার আশ্বাস দিয়েছিলেন। আল আমিন অধীর আগ্রহে স্ত্রীর ফেরার অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু আজ (শুক্রবার) সন্ধ্যা পর্যন্ত স্ত্রী ফিরে না আসায় চরম হতাশায় ভেঙে পড়েন। এই ক্ষোভ ও মানসিক যন্ত্রণা থেকে সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নোয়াখালীগামী উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেন যখন আরশিনগর এলাকা অতিক্রম করছিল, তখন আল আমিন তার শিশু সন্তান আরিয়ানকে নিয়ে লাইনে ঝাঁপ দেন। অলৌকিকভাবে বাবা ও সন্তান দুজনেই বেঁচে গেলেও তাদের অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর। দুর্ঘটনায় বাবা আল আমিনের ডান পা এবং মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে এবং শিশুটিও মাথায় গুরুতর আঘাত পায়।

পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।

নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মনির হোসেন জানান, বাবা ও ছেলেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তাদের দুজনের অবস্থাই গুরুতর।

নরসিংদী রেলওয়ে ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ মো. নাজিম উদ্দিন জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নোয়াখালীগামী উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে পড়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বাবা ছেলে হাসপাতালে আছে। 

আমিনুর রহমান সাদী/এসএইচএ