গাজীপুরের কাপাসিয়ায় অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে আতাউর রহমান (৩৫) নামে এক চালককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে জ্ঞান হারিয়ে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মারা গেছেন তার মা জহুরা খাতুন। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে উপজেলার সনমানিয়া ইউনিয়নের মির্জানগর গ্রামের শিমুলতলী সড়কের পাশ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় আতাউর রহমানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আতাউর রহমান উপজেলার বারিষাব ইউনিয়নের নরোত্তমপুর গ্রামের আব্দুল কাদিরের ছেলে। তিনি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালাতেন। পুলিশ ও স্বজনদের ধারণা, অটোরিকশাটি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। তার মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
নিহতের মামাতো ভাই আকরাম হোসেন বলেন, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন আতাউর। রাতে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, আতাউরের মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছালে তার মা জহুরা খাতুন চিৎকার দিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়। জহুরা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। ছেলের মৃত্যুর শোকেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবারের ধারণা।
কাপাসিয়া আড়াল বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। মির্জানগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের শিমুলতলী সড়কের একটি ফাঁকা স্থান থেকে অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ বলেন, এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
গাজীপুর জেলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর পুলিশ সুপার রকিবুল আফসার বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পিবিআইয়ের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যার রহস্য উদঘাটনে কাজ করা হচ্ছে।
আশিকুর রহমান/এসএইচএ
