বিজ্ঞাপন

চতুর্থবার মন্ত্রী হলেন মঈন খান, নরসিংদীতে আনন্দ-উচ্ছ্বাস

চতুর্থবার মন্ত্রী হলেন মঈন খান, নরসিংদীতে আনন্দ-উচ্ছ্বাস

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনের সংসদ সদস্য ড. আবদুল মঈন খান মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ার খবরে তার নির্বাচনী এলাকা পলাশসহ নরসিংদীজুড়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। 

শুক্রবার (২১ আগস্ট) তার মন্ত্রী হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

নবনিযুক্ত সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর পলাশসহ নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা আনন্দ প্রকাশ করেন। কোথাও কোথাও মিষ্টি বিতরণ করে আনন্দ ভাগাভাগি করেন তারা।

স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষেরা জানান, ড. আবদুল মঈন খান দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ রাজনীতিক। এর আগে তিনি সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। নতুন করে মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পাওয়ায় নরসিংদীসহ দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা করছেন তারা।

পলাশ বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোস্তফা কামাল বলেন, ড. আবদুল মঈন খান মন্ত্রী হওয়ায় পলাশবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে। তার মতো একজন অভিজ্ঞ, সৎ ও আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ব্যক্তির হাতে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব যাওয়া দেশের জন্য ইতিবাচক।

ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আলম মোল্লা বলেন, ড. মঈন খানের মতো একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিকের হাতে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব যাওয়া নরসিংদীসহ সারাদেশের মানুষের জন্য আনন্দের বিষয়। তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের রাস্তাঘাট, অবকাঠামো ও মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন হবে বলে আমরা আশাবাদী।

নরসিংদী আন্তঃজেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি সারোয়ার হোসেন মৃধা বলেন, মঈন খান স্যারের মন্ত্রী হওয়ার খবর নরসিংদীবাসীর জন্য নিঃসন্দেহে আনন্দের। সৃষ্টিকর্তা যেন তাকে সুস্থ রেখে সুনাম ও সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের তৌফিক দেন।

পলাশ উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান পাপন আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, আমার জীবনে আর চাওয়ার কিছু নেই। শুধু চাই, সৃষ্টিকর্তা যেন ড. আবদুল মঈন খান স্যারকে দীর্ঘজীবী ও সুস্থ রাখেন। তাকে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখতে পারা আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল।

তিনি আরও বলেন, এই স্বপ্ন ধারণ করে রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে থেকেছি। হামলা ও গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে, তবু রাজপথ ছাড়িনি।

জানা যায়,  ড. আবদুল মঈন খান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং নরসিংদী-২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য। ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে ৯২ হাজার ৭৩৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।

নরসিংদী-২ আসনে তিনি এর আগে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হন। 

২০০৮ সালের নির্বাচনে আসনটি বিএনপির হাতছাড়া হয়। ২০২৬ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি আবারও সংসদে ফেরেন।

মঈন খান এর আগে ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এবং ২০০১ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত তথ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০০২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।

শিক্ষাজীবনে তিনি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্স থেকে ১৯৭৩ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষকতা করেছেন। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে তিনি বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হন।

২০২৬ সালের নির্বাচনে বিজয়ের পরও তিনি নরসিংদীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচিতে সক্রিয় রয়েছেন।

তার মন্ত্রিসভায় যোগদানের খবরে পলাশের রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের আশা, ড. আবদুল মঈন খানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নরসিংদীসহ দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড আরও এগিয়ে যাবে।

আমিনুর রহমান সাদী/এসএইচএ