কুড়িগ্রামের উলিপুরে ব্রিজ ভেঙে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারীরা। গুরুত্বপূর্ণ এই ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার পর বড় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এরপর বাধ্য হয়ে স্থানীয় লোকজন কাঠের তৈরি অস্থায়ী সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী,ব্যবসায়ী নারী শিশু ও বয়স্কসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষর এই কাঠের সাঁকোই এখন একমাত্র ভরসা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় তিন বছর ধরে উপজেলার পান্ডুল ইউনিয়নের কাজজীপাড়া এলাকার বুড়ি তিস্তা খালের উপর ব্রীজটি ভেঙে পরায় যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়। পরে ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে ছোট একটি কাঁঠের সাঁকো করা হয়। সেই সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাকজীপাড়া, আমভন্দ্র পাড়া, চাকরি ঘুঘুরাম পান্ডলসহ প্রায় সাতটি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ চলাচল করছেন। এতে এলাকার মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষকে প্রতিদিন ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। সামান্য অসতর্ক হলেই সাঁকো থেকে পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনার ঘটছে। বর্তমানে সাঁকোটি হয়ে উঠেছে পারাপারের একমাত্র ভরসা।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরেও জানান, ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই পথ ব্যবহার করলেও ব্রিজ সংস্কার বা পুনর্নির্মাণে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে। বর্ষাকালে পানি বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠে।
স্থানীয় সাইফুল রহমান বলেন, ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার পর আমাদের চলাচলে ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে ঝুঁকি নিয়েই কাঠের সাঁকো দিয়ে পার হতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে পারাপার করতে খুবই ভয় লাগে।
পান্ডুল ইউনিয়নের আমভন্দ্র পাড়া এলাকার আব্দুল জলিল মিয়া বলেন, ব্রিজটি দিয়ে শুধু স্থানীয় মানুষই নয়, আশপাশের কয়েকটি এলাকার মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করতেন। ব্রিজটি সচল থাকাকালে সহজেই এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যাতায়াত করা সম্ভব হতো। বর্তমানে ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও প্রভাব পড়ছে।
স্থানীয় শিক্ষার্থী মো. হিরা মিয়া, মোছা. হাফিজা, জুয়েল মিয়াসহ অনেকেই জানায় আমরা প্রতিদিন স্কুল যাতায়াত করতে ভয় লাগে। ভয়ে ভয়ে সেতু পার হতে হয়। বৃষ্টির সময় আসলে সাঁকো পিচ্ছিল হয়ে গেলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
কাজজী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রিয়াজুল ইসলাম বলেন, আমার স্কুলের শিক্ষাথীরা অনেক ঝুঁকি নিয়ে পারপার হয়। সব সময় চিন্তায় থাকি কখন জানি শিশুদের দুর্ঘটনা ঘটে।
শুধু শিক্ষাথীরাই নয় বড় গাড়ি না আসায় শিক্ষকরাও অনেক কষ্ট করে আসেন। বৃষ্টির দিন আসলে পায়ে হেঁটে স্কুলে আসতে হয়। তাই জরুরি ভিত্তিতে নতুন একটি ব্রিজ দেওয়া দরকার।
ব্যাবসায়ী আমিনুল ইসলাম বলেন, কাঁঠের সাঁকো দিয়ে বড় ধরনের গাড়ি চলাচল না করায় আমাদের অনেক অসুবিধা হচ্ছে। ঠিক মতো ব্যবসা করতে পারছি না। যদি বড় গাড়ি নিয়ে কাকজী পাড়া গেলে প্রায় এক কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। এতে সময় বেশি লাগে।
পান্ডুল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. জয়নাল আবেদীন মালদার বলেন, কাঁঠের সাঁকোটি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে করে দেওয়া হয়েছে। নতুন ব্রিজ চেয়ে ইউএনও অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে বরাবর আবেদন করেছি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. ফিজানুর রহমান বলেন কাকজী পাড়ার ব্রিজটির বিষয়টি জানি। আমাদের ৫০ ফিট ব্রিজ পর্যন্ত বরাদ্দ আছে। ওখানে লাগবে ৭০ ফিট ব্রিজ যদি ৭০ ফিটের বরাদ্দ পাওয়া যায় তাহলে ঠিকাদারের মাধ্যমে করা হবে।
মমিনুল ইসলাম বাবু/এএমকে
