জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী মাছুদা বেগমকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্বামী মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে। সাত দিন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে অবশেষে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ওই গৃহবধূ। এ ঘটনায় স্বামী মেহেদী হাসানকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিহত মাছুদা বেগম ক্ষেতলাল উপজেলার দাশড়া গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদের মেয়ে এবং মেহেদী হাসান কালাই উপজেলার হারুঞ্জা শাহাপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে। প্রায় ২০ বছর আগে তাদের বিয়ে হয় এবং তাদের সংসারে ১৩ বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকে স্বামী মেহেদী হাসান বিভিন্ন সময় স্ত্রী মাছুদার কাছে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিলেন। ইতিপূর্বে মাছুদা তার পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ২০ শতক জমির ভাগের অংশ বিক্রির টাকা থেকে ১ লাখ টাকা দিলে স্বামী আরও ৫ লাখ টাকা যৌতুকের জন্য চাপ দিতে থাকেন। টাকা না দেওয়ায় নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো।
ঘটনার দিন গত ১৪ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে যৌতুকের দাবিতে মাছুদার হাত-পা বেঁধে ঘরের ভেতর উচ্চস্বরে গান বাজান মেহেদী হাসান। এরপর প্লায়ার্স দিয়ে মুখে আঘাত করে তার দুটি দাঁত ভেঙে ফেলা হয়। গরম কাস্তে দিয়ে তার হাত ও পায়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়। মাছুদা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঘরের ভেতরে ফেলে রেখে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। স্থানীয় লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে পরদিন তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে দীর্ঘ সাত দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার রাতে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় নিহত মাছুদার ভাই বছির উদ্দিন বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আদালতে মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে শুক্রবার রাতে কালাই থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।
বছির উদ্দিন বলেন, আমার বোনকে পৈশাচিক নির্যাতন করা হয়েছে। ঘটনার সাত দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা গেছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
কালাই থানা পুলিশের ইন্সপেক্টর (তদন্ত) দীপেন্দ্র নাথ সিংহ বলেন, আদালতের নির্দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করার পর ভিকটিম মারা যাওয়া তথ্য আসে। পরে অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে শনিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।
চম্পক কুমার/আরএআর
