কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকায় মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত কুষ্টিয়ার ৪ জন ও সাভারের একজনের মরদেহ বাংলাদেশে পৌঁছেছে। শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ভারতের স্থলবন্দর পেট্রাপোলে পৌঁছায়। পরে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে শূন্যরেখায় বিএসএফ মরদেহগুলো বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে।
পরে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সযোগে নিজ নিজ বাড়ির উদ্দেশে মরদেহ নিয়ে রওনা হন তাদের স্বজনরা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান খান।
নিহতরা হলেন- কুষ্টিয়া শহরের আরুয়াপাড়া (মোহিনী মিল এলাকা) এলাকার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত (৩৯), তার স্ত্রী আফসানা সিম্মিন (২৭), তাদের একমাত্র সন্তান স্বর্ণশীষ দত্ত (৩), আফসানার বাবা মো. আকরাম আলী (৬৪), ঢাকার সাভারের আমিনবাজার এলাকার কসমেটিকস ব্যবসায়ী বাবু আহমেদ (৩৭)।
কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকায় মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সাতজন নিহত হন। এম মধ্যে দেবাশীষ দত্ত দৈনিক ‘আজকের পত্রিকা’ ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘চ্যানেল ৯’-এর কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় ‘আজকের আলো’ পত্রিকার সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। স্ত্রী আফসানা শারমীন অসুস্থ থাকায় তার চিকিৎসার জন্য পরিবারের সদস্যরা কলকাতায় গিয়েছিলেন। সেখানে ‘শিখা ইন’ হোটেলে অবস্থানকালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তারা নিহত হন।
নিহত অন্য তিন বাংলাদেশির মধ্যে রয়েছেন ঢাকার সাভারের আমিনবাজার এলাকার কসমেটিকস ব্যবসায়ী বাবু আহমেদ (৩৭), সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের এস এম আলিমুজ্জামান সাজু এবং একই জেলার রেবতী সরকার। সাজু স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য কলকাতায় গিয়েছিলেন। রেবতী সরকার চিকিৎসার জন্য ওই হোটেলে অবস্থান করছিলেন। এর মধ্যে রেবতী সরকারের মরদেহ দেশে আনা হচ্ছে না। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কলকাতার নিমতলা মহাশ্মশানে তার সৎকার সম্পন্ন করা হবে।
কুষ্টিয়ার নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত ও তার পরিবারের মরদেহ গ্রহণ করেন কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আল-মামুন সাগর ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান। ঢাকার সাভারের সাজুর মরদেহ তার ভাই মনিরুজ্জামান গ্রহণ করেন।
মরদেহ গ্রহণের সময় কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আল-মামুন সাগর দুই দেশের সরকারের কাছে নিহতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের আবেদন জানান।
তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের পরিবার বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। সরকার যেন পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে যথাযথ ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করে।
এর আগে শনিবার দুপুরে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে অ্যাম্বুলেন্স ও লাশবাহী গাড়িতে করে কফিনগুলো বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের সামনে নেওয়া হয়। সেখানে নিহতদের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। ময়নাতদন্তসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান খান বলেন, মরদেহগুলো বেনাপোল দিয়ে দেশে প্রবেশ করেছে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) রুহুল আমিন বলেন, কলকাতা থেকে মরদেহ দেশে আনার জন্য বন্দরের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো বেনাপোল দিয়ে দেশে এসেছে।
গত বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত ২টার দিকে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মোট নয়জনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি ও দুইজন ভারতীয় নাগরিক। আইনি প্রক্রিয়া শেষে বাংলাদেশ উপহাইকমিশন ও স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। প্রিয়জনের মরদেহ দেশে ফেরার পর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোকের আবহ নেমে এসেছে।
রেজওয়ান বাপ্পী/আরএআর
