বিজ্ঞাপন

খাগড়াছড়িতে পানি নামলেও কাটেনি শঙ্কা

খাগড়াছড়িতে পানি নামলেও কাটেনি শঙ্কা

আকস্মিক বন্যার পানি খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার নিচু এলাকাগুলোর বাড়িঘর থেকে নেমে গেলেও নতুন করে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে মাত্র দুই থেকে তিন ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে জেলার বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। এতে ফসল, মাটির ঘরবাড়ি ও বসতঘরের আসবাবপত্রের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে খাগড়াছড়ি সদরের মেহেদীবাগ ও নিচের বাজার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর ঘরবাড়ি ও দোকানপাট থেকে কাদা ও জমে থাকা পানি পরিষ্কার করছেন স্থানীয়রা। কোথাও কোথাও বন্যার পানির চিহ্ন ও কাদার আস্তরণ এখনো স্পষ্ট রয়েছে।

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাবীন বলেন, সদর উপজেলার নিচু এলাকার বাড়িঘর থেকে পানি নেমে গেছে। তবে দুর্গত মানুষের জন্য প্রশাসনের ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

এদিকে সন্ধ্যার দিকে খাগড়াছড়িতে আবারও বৃষ্টি শুরু হওয়ায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কা করছেন নিচু এলাকার বাসিন্দারা। স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, আবারও ভারী বৃষ্টিপাত হলে পাহাড়ি ঢল নেমে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

দীঘিনালা উপজেলাতেও শনিবার বিকেল পর্যন্ত বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। পানি কমে যাওয়ায় সাজেক ও লংগদু উপজেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগও শুরু হয়েছে। তবে উপজেলার নিচু এলাকার কিছু বাড়িঘরে এখনো পানি রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

আকস্মিক বন্যায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে আউশ ও আমন ধানসহ মাঠের ফসলের। পানিতে মাটির ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বসতঘরের আসবাবপত্রও নষ্ট হয়েছে। এতে অনেক পরিবারকে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে।

দীঘিনালার মেরুং ইউনিয়নের সাবেক সদস্য আব্দুছ ছালাম মেম্বার বলেন, নিচু এলাকার অনেক বাড়িঘরে এখনো পানি রয়েছে। সন্ধ্যা থেকে আবারও বৃষ্টি হচ্ছে। ভারী বৃষ্টিপাত হলে আবার বন্যা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শুক্রবার রাতে হঠাৎ করে দুই থেকে তিন ঘণ্টা ভারী বৃষ্টিপাত হয়। একই সঙ্গে পাহাড়ি ঢল নেমে আসায় অল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন নিচু এলাকা প্লাবিত হয়। বৃষ্টির তীব্রতা এত বেশি ছিল যে অনেকে এটিকে ‘মেঘভাঙা বৃষ্টি’ বলে অভিহিত করেন। তবে সরকারি কোনো দায়িত্বশীল সূত্র এখনো এটিকে মেঘভাঙা বৃষ্টি হিসেবে নিশ্চিত করেনি।

বন্যার পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা করছেন প্রশাসন ও স্থানীয়রা। তবে নতুন করে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় পাহাড়ি ঢল ও ফের আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি। ফলে নিচু এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে।

মোহাম্মদ শাহজাহান/আরএআর

বিজ্ঞাপন