কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত ও তার পরিবারের সদস্যদের কুষ্টিয়ায় নিয়ে আসার পর ছেলে শর্ণশিষ সহ দেবাশীষ দত্তের মরদেহ সমাহিত করা হয়েছে। অপরদিকে ভোরে দেবাশীষের স্ত্রী আফসানা ও শ্বশুর আকরাম আলীর মরহেদ দাফন বা কবর দেওয়া হবে।
রোববার (২৩ আগস্ট) রাত দেড়টায় কুষ্টিয়ার মিলপাড়ায় অবস্থিত কুষ্টিয়া মহাশ্মশানে হিন্দুরীতি অনুযায়ী দেবাশীষ দত্ত ও তার তিন বছরের ছেলে শর্ণশিষকে সমাহিত করা হয়।
দেবাশীষের স্ত্রী আফসান ও শ্বশুর আকরাম আলীর মরদেহ মুসলিম ধর্মানুসারে জানাজা শেষে কুষ্টিয়া পৌর কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন করা হবে।
এরআগে গতকাল শনিবার বিকাল ৪টা ৪৫ মিনিটে যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে সাংবাদিক দেবাশীষ ও পরিবারের সদস্যদের মরদেহ আনা হয়। সেখান থেকে রাত সাড়ে ১০ টার সময় কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ার (ভাড়া বাসায়) বাড়িতে সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তার তিন বছর বয়সী ছেলে শর্ণশিষ দত্ত ও স্ত্রী আফসানা ও শশুর আকরাম আলীকে আনা হয়। পরে দেবাশীষের স্ত্রী আফসানা ও শ্বশুর আকরাম আলীকে নেওয়া হয় কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়ার নিজ বাড়িতে।
প্রায় ৯ বছর আগে ভালোবেসে আফসানাকে বিয়ে করেন দেবাশীষ। ভিন্ন ধর্মের হলেও তাদের সংসারে কোনো বাঁধা হয়নি। তাদের দুই সন্তান, মহিমা (৮) ও স্বর্ণশিষ (৩)।
গত ১৯ আগস্ট ভোরে ভারতের কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ও আগুনে পুড়ে নিহত হন নয়জন। এরমধ্যে কুষ্টিয়ার এই পরিবারের চারজন মারা যান।
কুষ্টিয়া একই পরিবারের চারজন কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, আজকের পত্রিকা ও চ্যানেল নাইন এর কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি দেবাশীস দত্ত (৩৭), তার স্ত্রী আফসানা শারমিন (২৫), তিন বছর বয়সী শিশুপুত্র শর্ণশিষ দত্ত এবং দেবাশীসের শ্বশুর কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়ার বাসিন্দা আকরাম আলী (৬৪)।
গত ৩ আগস্ট পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভারতে যান দেবাশীষ দত্ত। প্রথমে তারা বেঙ্গালুরুতে চিকিৎসা নেন। প্রায় ১৩ দিন পর সোমবার রাতে কলকাতায় ফিরে মঙ্গলবার সকাল থেকে আত্মীয়স্বজনের জন্য কেনাকাটা শেষে বুধবার সকালে তাদের দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু এর আগেই তাদের মৃত্যু হয়।
রবিউল আলম ইভান/এমটিআই
