রাজবাড়ীর গোয়ালন্দঘাট থানার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৮ লাখ ৫৮ হাজার টাকা মূল্যের ৯৯ বোতল স্কাফ সিরাপ ও ১৮৭ বোতল ফেয়ারডিলসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১০। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল ও একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়।
শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান পরিচালনা করে র্যাব-১০-এর সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছে র্যাব-১০-এর সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্পের সহকারী পরিচালক মিডিয়া ও সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার তপন সরকার।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বেগমপুর এলাকার মৃত আবুল হোসেনের ছেলে মো. মিলন হোসেন খান (৩৮), একতারপুর এলাকার মৃত হায়দার আলীর ছেলে মো. তরিকুল আহমেদ তারেক (৩৮), ভগবতীতলা এলাকার মৃত আব্দুল মোতালেবের ছেলে মো. শফিকুল ইসলাম (৪৮) এবং বরগুনার আমতলী এলাকার মৃত দেলোয়ার হোসেন খানের ছেলে মো. জুবায়ের হোসেন জুয়েল (৩৫)।
র্যাব জানায়, অভিযানে মোট ৯৯ বোতল স্কাফ সিরাপ ও ১৮৭ বোতল ফেয়ারডিল উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে স্কাফ সিরাপের আনুমানিক বাজারমূল্য ২ লাখ ৯৭ হাজার টাকা এবং ফেয়ারডিলের বাজারমূল্য ৫ লাখ ৬১ হাজার টাকা। উদ্ধার করা মাদকের মোট আনুমানিক মূল্য ৮ লাখ ৫৮ হাজার টাকা। এছাড়া তাদের কাছ থেকে পাঁচটি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাবের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী। তারা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে অবৈধভাবে স্কাফ সিরাপ, ফেয়ারডিলসহ বিভিন্ন মাদক সংগ্রহ করে ফরিদপুর, রাজবাড়ীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে আসছিলেন।
র্যাব আরও জানায়, গ্রেপ্তার মিলন হোসেন খানের বিরুদ্ধে একটি এবং তরিকুল আহমেদ তারেকের বিরুদ্ধে তিনটি মাদক মামলা রয়েছে।
র্যাব-১০-এর সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্পের সহকারী পরিচালক মিডিয়া ও সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার তপন সরকার জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।মাদক, অস্ত্র, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মীর সামসুজ্জামান সৌরভ/এমটিআই
