ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বড় ভাইয়ের স্ত্রীকে নিয়ে ছোট ভাইয়ের পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে দুই ভাইয়ের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
দুই মিনিট ১১ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের এই ভিডিওতে দেখা যায়, একই নারীকে স্ত্রী দাবি করছে আপন দুই ভাই। আর ওই নারীও আগের স্বামীকে অস্বীকার করে তার (স্বামীর) ছোট ভাইকে স্বামী হিসেবে দাবি করছেন।
জানা যায়, ভাঙ্গায় বড় ভাইয়ের স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যায় আপন ছোট ভাই।
শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে পরিবারের লোকজন পলাতক ছোট ভাই ও বড় ভাইয়ের স্ত্রীকে ঢাকা থেকে উদ্ধার করে ভাঙ্গায় নিয়ে আসে। এ সময় ভাঙ্গা থানার সামনের সড়কে ও ভাঙ্গা থানার চত্বরে দুই ভাইয়ের মধ্যে মারামারি হয়।
এ সময় ছোট ভাই আব্দুল্লাহ (২৫), বড় ভাই একরাম আলী (২৮) ও স্ত্রী পূর্ণিমা (২২) আহত হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পুলিশ উভয় পক্ষকে থানা চত্বর থেকে বের করে দেয়। এ ঘটনায় ভাঙ্গায় শত শত উৎসুক জনতা ভিড় জমায় থানার চত্বরে।
জানা যায়, ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের বালিয়াচড়া গ্রামের আজিজুল হকের বড় ছেলে একরাম আলী পার্শ্ববর্তী গ্রামের পূর্ণিমা নামের এক নারীকে বিয়ে করে। বিয়ের কিছুদিন পরেই তার ছোট ভাই আব্দুল্লাহর সঙ্গে পূর্ণিমা প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে জানাজানি হলে বড় ভাইয়ের বউকে নিয়ে পালিয়ে যায় ছোট ভাই। কয়েকদিন ঘর-সংসার করে তারা।
পরে শনিবার দুপুরে পালিয়ে যাওয়া নারীর পিতা ও তার বড় ভাই সাভার থেকে উদ্ধার করে ভাঙ্গায় নিয়ে আসে এবং উভয় পক্ষের মীমাংসার চেষ্টা করে।
পুলিশ ও জনতার সামনেই দুই ভাই হাতাহাতি ও মারামারি শুরু করে। এ সময় এক স্ত্রীকে দুই ভাই তাদের স্ত্রী দাবি করে হট্টগোলের সৃষ্টি করে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।
পূর্ণিমার পিতা বলেন, মেয়েকে উদ্ধার করে বিষয়টি আইনি ও সামাজিকভাবে সমাধানের উদ্দেশ্যে উভয় পক্ষকে নিয়ে থানায় জড়ো হই। থানা প্রাঙ্গণে উভয় পক্ষের আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় জনতার উপস্থিতিতে এক পর্যায়ে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
পূর্ণিমা জানান, আমার প্রথম স্বামী একরাম ও পরিবারের লোকজন আমাকে অনেক নির্যাতন করত। সে সময় আমার দেবর আব্দুল্লাহ আমাকে সহায়তা করত। পরবর্তীতে আমি আমার স্বামীকে ছেড়ে দেবরকে বিয়ে করি। আমরা বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে অন্যত্র ঘর-সংসার শুরু করি।
এ ব্যাপারে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, আমার থানার গেটের সামনে এক নারীকে নিয়ে পরিবারের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হয়েছে। পুলিশ গিয়ে তাদেরকে বের করে দিয়েছে।
জহির হোসেন/এমটিআই
